বিরোধীদলীয় নেতা বললেন

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরলেও কাঠামো ঠিক হয়নি

আদালতের রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরলেও এর ফরমেশন (কাঠামো) এখনো ঠিক হয়নি বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিরোধী দল শুরু থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে সংবিধানে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের যে জনমত সৃষ্টি হয়, তার পূর্ণ বাস্তবায়ন হওয়া উচিত ছিল। গতকাল বুধবার সংসদের এলডি হলে বাজেটপরবর্তী মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি ও অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, শাহজাহান চৌধুরী এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এমপি সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান প্রমুখ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দেওয়া সংস্কারের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে সরকারি দলের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সংসদের ভেতরে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ায় বিরোধীদল জনগণের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তাদের সব কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও অহিংস। তিনি বলেন, জনগণের দাবি আদায়ে জামায়াত সংসদের ভেতরে ও বাইরে সোচ্চার থাকবে। সরকার জনস্বার্থে কাজ করলে সমর্থন দেবে, তবে জনগণের অধিকার খর্বের চেষ্টা হলে ছাড় দেওয়া হবে না।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আমরা এ সংসদকে গানের সংসদ হিসেবে দেখতে চাই না। সংসদের ভেতরে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। জাতিকে স্বপ্ন দেখাতে হবে, বাস্তবায়নও করতে হবে। কাদা ছোড়াছুড়ি বাদ দিয়ে কাজ করলে তখন হবে জনগণের সংসদ। সব অধিকার ফিরিয়ে আনতে ঠা-া মাথায় কাজ করতে হবে। আমরা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে চাই। আমরা কারও উসকানিতে নেই। স্থিতিশীল দেশ গড়তে সরকারি দল একা পারবে না, বিরোধীদলকেও সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াতের ছায়া মন্ত্রিসভা (শ্যাডো ক্যাবিনেট) হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি নতুন ধারণা। ছায়া মন্ত্রিসভাকে ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় রূপ দেওয়া হবে। এতে দল ক্ষমতায় গেলেও সরকারের কার্যক্রমের গঠনমূলক পর্যালোচনা অব্যাহত থাকবে।

সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম সরকারি গাড়ি নেব না। এখানে ফ্ল্যাট লাগিয়ে দিচ্ছে। সংসদ বিলুপ্ত হলে সরকারি ফ্ল্যাট সেটা ছেড়ে দিতে হবে। এটা নিয়ে পানি ঘোলা করা হয়। সরকারি সুযোগ-সুবিধা যতটা না নিলে হয় সেটা চেষ্টা করব।’ তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব শুধু রাজনীতিবিদদের নয়; রাষ্ট্রের চারটি পিলারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একটি খুঁটি না থাকলে যেমন ভবন ভেঙে পড়ে, তেমনি রাষ্ট্রও দুর্বল হয়ে পড়ে। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের ‘ওয়াচডগ’ হলেও অতীতে কোনো সরকারই প্রকৃত অর্থে গণমাধ্যমকে প্রয়োজনীয় পরিসর দেয়নি।’ সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলুন।’