নতুন পোশাকে মাঠে পুলিশ

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩২ এএম

আবারও নতুন পোশাকে মাঠে নেমেছে পুলিশ। গত অন্তর্বর্তী সরকারে জারি করা পোশাকের রঙ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই নিয়ে পুলিশের ভেতরেই এক ধরনের চাপা ক্ষোভ ছিল। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আবারও পোশাকের রঙ পরিবর্তন করে। গতকাল বুধবার গাঢ় নীল ও হালকা জলপাই রঙের শার্ট এবং খাকি রঙের প্যান্ট ব্যবহার করেন পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ ঊর্ধ্বতনরা।

নতুন পোশাকপরা একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, নতুন পোশাকটি তুলনামূলক ভালো। তবে প্যান্টের কালার ভালো হয়নি। তারপরও আগের চেয়ে ভালো। আগের পোশাকটি বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে মানানসই ছিল না।

গতকাল বুধবার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পরিচালিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে নবনির্মিত ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপি আলী হোসেন ফকিরকে গাঢ় নীল শার্টে এবং ডিএমপি কমিশনার  মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে হালকা জলপাই রঙের শার্টে দেখা যায়। তবে উভয়ের প্যান্টের রঙ ছিল ‘খাকি’।

এই বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক (অপারেশন) রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আজ (গতকাল) থেকে নতুন পোশাক পরছেন পুলিশ সদস্যরা। তবে সব সদস্যকে এখনও দেওয়া হয়নি। পর্যায়ক্রমে সব সদস্য পোশাক পাবেন। যারা নতুন ইউনিফর্ম পেয়েছেন তারা এরই মধ্যে নতুন ইউনিফর্মে দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেছেন। পুলিশের শার্ট ও প্যান্টের পাশাপাশি জার্সি, কার্ডিগান, পুলওভার, জ্যাকেট, নারীদের পোশাক, মাথার আবরণ এবং পূর্ণহাতা পোশাকের রঙ সংক্রান্ত বিধানেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের বিধানে পুলিশের শার্টের রঙ ছিল আইরন বা লোহা-ধূসর, আর প্যান্টের রঙ ছিল কফি শেল বা কফি-বাদামি ধূসর। আগে লোহা-ধূসর রঙের শার্টের ওপর লোহা-ধূসর রঙের ফুলহাতা জার্সি, কার্ডিগান বা পুলওভার ব্যবহারের কথা ছিল। নতুন বিধানে সেটির পরিবর্তে নীল রঙের শার্টের ওপর গাঢ় নীল রঙের ফুলহাতা জার্সি, কার্ডিগান বা পুলওভার যুক্ত করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জেলা পুলিশ এবং এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি ও র‌্যাব ছাড়া অন্য ইউনিটের ক্ষেত্রে ট্রাউজার হবে খাকি রঙের টিসি টুইল কাপড়ের। শার্ট হবে গাঢ় নীল রঙের টিসি প্লেইন ফেব্রিক কাপড়ের। শার্টের সামনে চারটি পকেট থাকবে। সামনের অংশে সমদূরত্বে সাতটি বোতাম থাকবে। নারী পুলিশের পোশাকের বিষয়েও বলা হয় তারা চাইলে শাড়ি পরতে পারবেন। জেলা পুলিশ ও অন্য ইউনিটের ক্ষেত্রে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে গাঢ় নীল ব্লাউজ পরা যাবে। মহানগর পুলিশের ক্ষেত্রে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে হালকা জলপাই রঙের ব্লাউজের কথা বলা হয়েছে। তা ছাড়া নারী পুলিশ সদস্যরা চাইলে মাথার আবরণ ব্যবহার করতে পারবেন। ট্রাফিকে কর্মরত নারী পুলিশ সদস্যরাও সারা বছর পূর্ণহাতা শার্ট বা ব্লাউজ পরতে পারবেন। গর্ভাবস্থায় সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানের অনুমতি নিয়ে নারী পুলিশ সদস্য সাধারণ পোশাক পরতে পারবেন। মৌসুম অনুযায়ী শার্টের ধরনও নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রীষ্মকালে শার্ট হবে অর্ধহাতা। শীতকালে শার্ট হবে পূর্ণহাতা। মাথার আবরণের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, সেটি অনুমোদিত গাঢ় নীল রঙের হবে।

জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশে সংস্কারের দাবি ওঠে। কেউ কেউ পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের দাবিও করেন। গত বছরের ২০ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। পুলিশের সব সদস্যের জন্য নির্ধারিত হয় আয়রন (লোহা) রঙের পোশাক। গত বছরের ২৫ নভেম্বর নতুন পোশাকে মাঠে নামে পুলিশ। যদিও সেই পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেক পুলিশ সদস্য পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। তারাও পোশাকের রঙ নিয়ে প্রশ্ন তোলে বলেন, এই রঙের পোশাক দেখতে ভালো লাগছে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রল হওয়ায় তারা অস্বস্তিতে ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত