বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন ২০২৬

মেয়ে মুক্তিকে নিয়ে যা বললেন আনোয়ারা

রাত পোহালেই (শুক্রবার, ৩ জুলাই) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে এফডিসিতে বিরাজ করছে টান টান উত্তেজনা। তবে এবারের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনে সব আলোচনা আর প্রচারণাকে ছাপিয়ে গেছে একটি মাতৃত্বের আবেগ ও অশ্রু। ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সফল ও শক্তিমান অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগমের জীবনের শেষ ইচ্ছা তার সুযোগ্য কন্যা রুমানা ইসলাম মুক্তি যেন শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে সাধারণ শিল্পীদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। 

 নব্বই দশকের তুমুল জনপ্রিয় নায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি দীর্ঘদিন রূপালি পর্দা থেকে দূরে থাকলেও সবসময় এফডিসির শিল্পীদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন। বর্তমানে সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মুক্তি এবার সরাসরি আরমান-মুক্তি পরিষদ থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন। 

এই নির্বাচনী আমেজের মাঝেই বুধবার (১ জুলাই) রাতে আরমান-মুক্তি পরিষদের প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠানে নেমে এল পিনপতন নীরবতা, যা পরবর্তীতে রূপ নেয় এক আবেগঘন মুহূর্তে। ঢালিউডের সোনালি যুগের অন্যতম জনপ্রিয় ও নন্দিত অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগম তার মেয়ে চিত্রনায়িকা মুক্তির জন্য ভোট চাইতে এসে প্রকাশ্যেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। 

জানা গেছে, মুক্তি নিজে থেকে এই নির্বাচনে আসতে চাননি; বরং তার মা আনোয়ারার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা, সাধারণ সদস্যদের আগ্রহ এবং মায়ের স্বপ্নপূরণ করতেই তিনি এবার ভোটে দাঁড়িয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রে পর্দার আড়ালে থাকা এই মায়ের একটাই চাওয়া তার মেয়ে যেন চলচ্চিত্র জগতের মানুষদের পাশে দাঁড়াতে পারে এবং তাদের কল্যাণে কাজ করতে পারে। 

প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠানের মঞ্চে যখন প্রবীণ অভিনেত্রী আনোয়ারাকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য মাইক্রোফোন দেওয়া হয়, তখন তিনি পুরোনো দিনের স্মৃতিরোমন্থন করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। এফডিসির সঙ্গে তার জীবনের বহু বছরের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। জীবনের এই শেষ সময়ে এসে মেয়ের জন্য সবার কাছে ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করার সময় তিনি আর নিজের কান্না চেপে রাখতে পারেননি। মাইক্রোফোনের সামনেই তিনি ডুকরে কেঁদে ওঠেন এবং বলেন, ‘আমার মেয়ে আপনাদেরই বোন, মেয়ে এবং সহকর্মী। ও আমার স্বপ্নপূরণ করতে এখানে এসেছে। আপনাদের জন্য কাজ করতে চায়। আপনারা ওকে ফিরিয়ে দেবেন না।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘আমার অস্তিত্ব আমার মেয়ে। মুক্তি শিল্পীদের জন্য কতটা উপযুক্ত তা আপনারা নিশ্চয়ই মুক্তির কাজের মাধ্যমে এরই মধ্যে প্রমাণ পেয়েছেন। আশা করি, আমার শিল্পী সমিতির ভালোবাসার মানুষেরা মুক্তিকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন। সবাই আরমান-মুক্তি প্যানেলের সঙ্গে থাকবেন। আমার মেয়েকে ভোট দেওয়া মানে আমাকে ভোট দেওয়া। আমার মেয়ের বিজয় মানে আমার বিজয়। মুক্তি হারলে আমি হেরে যাব।’