গরমে কীভাবে সুস্থ থাকবেন

গরমে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে যায়, ফলে ডিহাইড্রেশন, দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দেয়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণভাবে দিনে ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা ভালো। পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও ফলের রস শরীরকে ভেতর থেকে ঠা-া রাখে এবং শক্তি জোগায়। লেবু, কমলা, আমলকী ইত্যাদি টক ফল এ সময়ে খুব উপকারী। এগুলোতে ভিটামিন সি থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, শরীর ঠা-া রাখে এবং ত্বক সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

টক দই খুব উপকারী। এতে প্রোবায়োটিক থাকে, যা হজম শক্তি বাড়ায়, পেট ঠা-া রাখে এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।

চিয়া সিড ও গরমে খুব ভালো একটি খাবার। পানিতে ভিজালে এটি জেলির মতো হয়, যা শরীরকে দীর্ঘ সময় হাইড্রেটেড রাখে। এতে ফাইবার ও ওমেগা-৩ থাকে, যা হজম ও এনার্জি বাড়ায়। সাধারণত দিনে ১ থেকে ২ বার গোসল করা ভালো। বেশি ঘাম হলে ২ বার গোসল করা আরামদায়ক। এতে শরীর পরিষ্কার থাকে এবং ঘামজনিত সমস্যা কমে।

গরমের ত্বকে সমস্যা ও যত্ন

গরমে অতিরিক্ত ঘাম, তেল ও ধুলা জমে ত্বকের রন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ব্রণ, ফুসকুড়ি ও স্কিন ইরিটেশন হতে পারে। দিনে অন্তত ২ বার মৃদু ফেসওয়াশ ব্যবহার করে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। এতে তেল ও ময়লা দূর হয় এবং ব্রণ কমে। বাইরে বের হওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। এটি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে এবং দাগ পড়া কমায়। হালকা, ঢিলা ও সুতির পোশাক পরা সবচেয়ে ভালো।

শরীরকে ঠা-া রাখে এবং ঘাম সহজে শুকাতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত তেল-ঝাল ও ভারী খাবার এড়িয়ে শাকসবজি, ফলমূল ও হালকা খাবার খাওয়া উচিত। পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এই চারটি বিষয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

গরমের এ সময়ে একটু সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললে শরীর ও ত্বক দুটোই ভালো রাখা সম্ভব। সঠিক খাবার, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত গোসল এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার এই ছোট অভ্যাসগুলোই আপনাকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে সাহায্য করবে।