মানজাম্বি জাদুতে শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ড

ম্যাচের আগে যখন স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে ২০ বছর বয়সী জোহান মানজাম্বির ছবি ভেসে উঠছিল, ফিফার ‘পাওয়ার র‍্যাংকিং’ বলছিল এমবাপ্পে-হালান্ডদের ঠিক পেছনেই আছে এই সুইস তরুণের নাম। সেই চিত্র প্রমাণ করলেন ভ্যাঙ্কুভারের মাঠেও। স্কোরলাইনে ব্রিল এমবোলো এবং ড্যান এনদয়ের নাম থাকলেপ মাঝমাঠ থেকে আক্রমণের সুর বেঁধে দিয়ে পুরো ম্যাচের আসল গল্পটা নিজের করে নিয়েছেন মানজাম্বি।

মূলত ‘নাম্বার নাইন’ বা ফরোয়ার্ড হলেও আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে খেলে পুরো মাঠজুড়ে জাদুকরী ফুটবল উপহার দিলেন ২০ বছর বয়সী এই ফাইবার্গ তারকা। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে অনায়াসে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে সুইজারল্যান্ড। মানজাম্বির এই ছকভাঙা পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই দীর্ঘ ৮৮ বছর পর (১৯৩৮ সালের পর) বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে প্রথম জয়ের ঐতিহাসিক স্বাদ পেল সুইজারল্যান্ড।

ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ১০ মিনিট। নিজেদের অর্ধে আলজেরিয়ার আক্রমণ নসাৎ করে দিয়ে রুবেন ভারগাস বল বাড়িয়ে দেন মানজাম্বির পায়ে। আলজেরিয়ার সীমানায় বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েই গতিতে ঝড় তোলেন এই তরুণ। আলজেরিয়ান রাইট-ব্যাক আইসা মান্দিকে রীতিমতো নাচিয়ে, তার বাধা এড়িয়ে বাইলাইনের একেবারে শেষ প্রান্তে পৌঁছে যান তিনি। ভারসাম্য হারিয়ে ফেলার মুহূর্তেও শরীরকে নিয়ন্ত্রণে রেখে যে নিখুঁত ক্রসটি তিনি বাড়িয়ে দিলেন, তাতেই আলজেরিয়ার রক্ষণ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। বক্সে থাকা ব্রিল এমবোলো কেবল আলতো ছোঁয়ায় বল জালে জড়ান (১-০)। গোলটি এমবোলোর হলেও গ্যালারি মজেছিল মানজাম্বির পায়ের জাদুতেই।

লিড নেওয়ার পর কোচ মুরাত ইয়াকিন মাঠের কৌশল বদলে রক্ষণাত্মক দেয়াল তৈরি করেন, যার ফলে গ্রানিত জাকা আর ডেনিস জাকারিয়াদের ডিঙিয়ে আলজেরিয়ার হৌসেম আউয়ার কিংবা রিয়াদ মাহরেজরা সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলকে সামান্যতম পরীক্ষাও করতে পারেননি।

প্রথমার্ধের সেই স্বস্তি সুইজারল্যান্ড দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই উৎসবে রূপান্তর করে। এবারও আক্রমণের শুরুটা বাম প্রান্ত দিয়ে। মান্দির একটি দুর্বল ক্লিয়ারেন্স বক্সের ঠিক ভেতরে খুঁজে নেয় ড্যান এনদয়কে। নটিংহাম ফরেস্টের এই উইঙ্গার বাঁ পায়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আলজেরিয়ান গোলরক্ষক লুকা জিদানকে পরাস্ত করে ডান পায়ের কোণাকুণি শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন (২-০)। ডাগআউটে দাঁড়িয়ে চশমা চোখে সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিন তখন শেষ ষোলোর সুবাস পাচ্ছিলেন।

ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে নিজের কাজ শেষ করে মানজাম্বি যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানায়। অধিনায়ক জাকা দলের প্রত্যাশার চাপকে আগলে রাখার চেষ্টা করলেও, মানজাম্বির এমন পারফরম্যান্সের পর সুইসদের নিয়ে বিশ্বমঞ্চে বড় স্বপ্ন দেখাটা এখন ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আরও সহজ হয়ে গেল। ম্যাচের ৮১ মিনিটে ফাবিয়ান রিডার অবিশ্বাস্যভাবে ফাঁকা পোস্টে গোল করতে ব্যর্থ হলেও তা ম্যাচের একতরফা ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলেনি। এই দাপুটে জয়ের পর আগামী ৭ জুলাই এই ভ্যাঙ্কুভারেই কলম্বিয়া বা ঘানার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সুইজারল্যান্ড।