ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ১৬ নিশ্চিত করার পর পর্তুগাল শিবিরে এখন আনন্দের হাওয়া। তবে সেই উদযাপনের রেশ কাটার আগেই আলোচনা জমতে শুরু করেছে আগামী সোমবারের ব্লকবাস্টার স্পেন ম্যাচ এবং দলের মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বদলি হওয়া নিয়ে। ডালাসের সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচের রণকৌশল এবং দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে খোলামেলা কথা বলেছেন পর্তুগিজ কোচ রবার্তো মার্তিনেজ।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচ যে পরিমাণ রোমাঞ্চ আর চাপ তৈরি করছে, তা অকপটে স্বীকার করে মার্তিনেজ বলেন, “আমি স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি. আমি ইতিমধ্যে আমার মাথার সব চুল হারিয়ে ফেলেছি, তবে আজ আমি কিছুটা বেশি যৌক্তিক হতে পেরেছি। বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে এসে আবেগের জোয়ার সামলানো কঠিন। আমার মনে পড়ে না এর আগে কখনো এতটা উত্তেজনাপূর্ণ বিশ্বকাপ হয়েছে কি না। অনেক বড় বড় দল কিন্তু ইতিমধ্যেই বাড়ি ফিরে গেছে।”
সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হওয়া প্রসঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “বিশ্বকাপে কোনো ইউরোপীয় দলের বিরুদ্ধে খেলাটা সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা। আমরা স্পেনকে খুব ভালো করে চিনি, তারাও আমাদের চেনে। এটা একটা চমত্কার ম্যাচ হতে যাচ্ছে। এই বিশ্বকাপে আসলে কোনো ফেবারিট দল বলে কিছু নেই। ফ্রান্স ছাড়া বাকি সব ম্যাচই খুব সূক্ষ্ম ডিটেইলসের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়েছে।”
ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরানো রোনালদো এদিন ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হলেও ম্যাচের ৮১ মিনিটে তার মাঠ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল পাড়ায় গুঞ্জন তৈরি হয়। পর্তুগিজ গণমাধ্যমের একাংশের দাবি, অধিনায়ক এই পরিবর্তনটি ইতিবাচকভাবে নেননি। তবে কোচের সেই কৌশলী চাল যে কতটা নিখুঁত ছিল, তা প্রমাণিত হয়েছে রোনালদোর বদলি হিসেবে নামা গনজালো রামোসের জয়সূচক গোলেই। এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে মার্তিনেজ ব্যাখ্যা দেন, “ওই মুহূর্তে ম্যাচের পরিস্থিতি অন্যরকম একটি কাঠামোর দাবি করছিল। দলের প্রয়োজনেই ওই পরিবর্তনটি করা হয়েছিল।”
দলের এই নতুন নায়কের আত্মবিশ্বাস নিয়ে উইঙ্গার বার্নার্দো সিলভাও মেতেছেন প্রশংসায়। রামোসের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “রামোসের আত্মবিশ্বাস প্রবল। ও ম্যাচ শুরুর আগেই আমাকে বলেছিল যেন আমি কোনো চিন্তা না করি, ও গোল করবে।” নকআউট পর্বের ডেডলক ভাঙা রোনালদো এবং তরুণ রামোসের এই যুগলবন্দী নিয়ে পর্তুগাল এখন স্পেনের টিকিটাকা বধের ছক কষছে, যা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আরও একটি ধ্রুপদী লড়াইয়ের আভাস।