নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে এখনো অনিশ্চয়তা

নতুন পে-স্কেল বা নবম বেতন কাঠামোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও গেজেট প্রকাশ, প্রশাসনিক আদেশ এবং সফটওয়্যারভিত্তিক হিসাব সমন্বয়ের মতো আনুষ্ঠানিকতা বাকি থাকায় এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তা ও হতাশা কাজ করছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে আংশিক বা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও নির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

পে কমিশন নতুন মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করলেও গেজেট বা প্রজ্ঞাপন এখনও জারি না হওয়ায় বর্ধিত বেতন প্রাপ্তি নিয়ে চাকরিজীবীদের অপেক্ষা বাড়ছে।

সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের বেতন ও পেনশন সমন্বয়ের জন্য জটিলতা এড়াতে সুনির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি নির্ধারণের বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি ইতোমধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর একটি খসড়া রূপরেখা প্রস্তুত করেছে, যার ওপর ভিত্তি করে বর্তমানে চূড়ান্ত গেজেট প্রণয়নের কাজ চলছে। সরকার বর্তমানে বিশ্লেষণ করে দেখছে যে, কত ধাপে এই বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা যায় এবং এর ফলে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতির প্রভাব কীভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই নবম পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার কারণে বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে চলতি মাসের মাঝামাঝি বা শেষ নাগাদ গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলেও বকেয়াসহ বেতন-ভাতা পরিশোধের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশে সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর থেকে প্রতি বছর কেবল ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হলেও পূর্ণাঙ্গ কোনো পে-স্কেল দেওয়া হয়নি। এই দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটাতে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

কমিশনের প্রস্তাবনায় সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার থেকে বৃদ্ধি করে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের যাতায়াত ভাতায় বড় ধরনের সংস্কারের সুপারিশ করা হয়।