১০ দিনে যমুনাপাড়ের ১৫০ মিটার বিলীন, ভাঙন আতঙ্ক গ্রামবাসী

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে। কিন্তু কোনোভাবেই ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। ফলে নদীপাড়ের মানুষের মাঝে চরম আতঙ্কে বিরাজ করছে। 

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে যমুনার পানি বিপদ সীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, ভয়ের কিছু নেই।

শহড়াবাড়ি গ্রামবাসী ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা জানায়, গত ১০ দিনে প্রায় ১৫০ মিটার নদীর পাড় ভেঙে যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে। এতে করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও জনবসতির দিকে ভাঙন এগিয়ে আসছে। এদিকে বৃষ্টির কারণে নদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য তারা ভাঙনের ভয়ে আতঙ্কিত।

তারা জানায়, ২৩ জুন শহড়াবাড়ি গ্রামে যমুনা নদীর ঘাট এলাকায় জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলার স্থানে ফের ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। ভয়াবহ ভাঙনে প্রায় ৫৫ মিটার অংশের জিও ব্যাগ ও টিউবসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ নিয়ে ২১ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ১৫০ মিটার অংশ নদীতে বিলীন হয়। অথচ সেখানে ভাঙন ঠেকাতে প্রতিদিন বালু ভর্তি জিও ব্যাগ এবং টিউব ফেলা হচ্ছে। তবে নদীপাড়ের মানুষের দাবি এখন ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান। এদিকে প্রতিদিনই একটু করে ভাঙছে যমুনা।
 
শহড়াবাড়ী গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, পানি উন্নয়ন বোর্ড সেখানে বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙ্গনরোধের চেষ্টা করলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই ভাঙছে একটু একটু করে।

বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, নদী ভাঙনের খবরর পাওয়ার পর পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছি সেখানে কাজ করার জন্য। ওখানে বালুর ব্যাগ ডাম্পিং চলমান রয়েছে। আগামী ৫ জুলাই সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে সেখানে কাজ চলছে। নদীতে স্রোত বেশি থাকায় ভাঙনের সূত্রপাত হয়। আমরা প্রতিদিন ওই স্থানে বালুর ব্যাগ ফেলছি। যতক্ষণ পর্যন্ত ওই স্থানে ভাঙন ঠিক না হবে ততক্ষণ কাজ চলমান থাকবে। ওখানে পানির নিচে ঘুর্ণি হচ্ছে, তাই জিওব্যাগ ফেললেও তা সরে যাচ্ছে। 

তিনি জানান, ভাঙন নিয়ে ভয়পর কিছু নেই। যেহেতু যমুনার পানি বিপদ সীমার প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও সারিয়াকান্দির বানিয়াজান বাঁধের কাজ চলছে। আশা করছি। জুলাই প্রথম সপ্তাহ পার হয়ে গেলে আর কোনো ভয় থাকবে। তবে জরুরি ভিত্তিতে যমুনা নদীর স্পার এলাকাগুলোতে কাজ চলমান রয়েছে।