দুই বছর আগে গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধে এজাহারভূক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট সার্ভিস রুলস অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের (এনএলসি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকুর আলী জুনু এই আবেদনটি করেন। এতে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে। রবিবার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে আবেদনটি উপস্থাপন করা হবে বলে দেশ রূপান্তরকে জানান জুলফিকুর আলী জুনু।
আবেদনের যুক্তিতে আইনজীবী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। এসব মামলার তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সদস্যদের দায়িত্বে বহাল রাখা হলে তদন্তের নিরপেক্ষতা, জনআস্থা এবং আইনের শাসনের প্রশ্নে উদ্বেগ সৃষ্টি হতে পারে।
আইনজীবী বলেন, তদন্ত চলাকালে প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট সার্ভিস রুলস অনুযায়ী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ যেন এজাহারভূক্তদের বিরুদ্ধে সাময়িক প্রশাসনিক ব্যবস্থা, সাময়িক বরখাস্ত বা দায়িত্ব সীমিতকরণের ব্যবস্থা নেয়, সেবিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপশি জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করতে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
অ্যাডভোকেট জুলফিকুর আলী জুনু বলেন, এজাহারভুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিষয়ে প্রচলিত আইন ও সার্ভিস রুলস অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিবেচনা না করার বৈধতা প্রশ্নে রুলের আরজি জানানো হয়েছে রিট আবেদনে। এছাড়া রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদন্তাধীন কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে আইন ও সার্ভিস রুলস অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত বা অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।