বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ নামে একটি নতুন ব্যাটালিয়ন গঠন করেছে। এই নতুন ব্যাটালিয়নের অধীনে মোট চারটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে; যেগুলোর নামকরণ করা হয়েছে ইসলামের চার খলিফা-হজরত আবু বকর (রা), হজরত উমর (রা), হজরত উসমান (রা) এবং হজরত আলী (রা)-এর নামে।
এই ব্যাটালিয়নে আরও দুটি কোম্পানির প্রস্তাব করা হয়েছে; যেগুলো হবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পূর্ণাঙ্গ নারী কোম্পানি। আর সেগুলোর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে-হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কন্যা হজরত ফাতিমা (রা) এবং স্ত্রী হজরত আয়েশা (রা)-এর নামে। তবে এ প্রস্তাব এখনো অনুমোদিত হয়নি।
বাংলাদেশের এমন সিদ্ধান্তে গা জ্বলা শুরু হয়েছে ভারতের। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘আজতক বাংলা’ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ‘সংবেদনশীল’ এবং ‘নেতিবাচক’ হিসেবে উপস্থাপন করছে। তারা এই পরিবর্তনকে কেবল সাধারণ একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে না দেখে বরং একটি বড় ধরনের আদর্শিক পরিবর্তন হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করছে।
ভারতীয় মিডিয়া এই বিষয়টিকে এভাবে দেখছে যে, যেখানে আগে সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলোর নাম ছিল ‘বীরশ্রেষ্ঠদের’ নামে, সেখানে এখন ইসলামের ‘চার খলিফার’ নামে নামকরণ করা হচ্ছে। তাদের আলোচনায় এটি ইঙ্গিত করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশ হয়তো তার মূল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে আসছে।
‘নবভারত টাইমস’-এর শিরোনাম: ‘Bangladesh Army: Is General Zaman forming an Islamic army for Bangladesh? A company named after the Prophet’s first four caliphs.’
‘নর্থইস্ট নিউজ’-এর শিরোনাম: ‘Bangladesh Army’s new battalion has Umar, Abu Bakr, Ali and Usman companies.’ প্রতিবেদনের ভেতরে মন্তব্য হিসেবে লেখা হয়েছে, “Naming the four companies after close companions and fathers- and sons-in-law is a sign of growing Islamisation within the rank and file of the Bangladesh Army.”
এদিকে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কয়েকটি কোর, ব্রিগেড, ব্যাটালিয়ন রয়েছে, যেগুলোর নাম সরাসরি হিন্দু দেবতার সঙ্গে যুক্ত প্রতীক থেকে নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি এলিট ব্যাটালিয়নের নামকরণ করা হয়েছে ‘ভৈরব ব্যাটালিয়ন’ নামে। ভৈরব হচ্ছে হিন্দু দেবতা শিবের অগ্নিমূর্তি।
এছাড়া কয়েকটি ইউনিটের নাম রয়েছে যেগুলো হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন প্রতীকের নামে। যেমন, ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৭ কোরকে বলা হয় ব্রহ্মাস্ত্র কোর, ২১ কোরকে বলা হয় সুদর্শন চক্র কোর, ৩৩ কোরকে বলা হয় ত্রিশক্তি কোর, ১১ কোরকে বলা হয় বজ্র কোর, ১০ কোরকে বলা হয় চেতক কোর।
ব্রহ্মাস্ত্র হিন্দু পুরাণের অন্যতম শক্তিশালী দিব্যাস্ত্র। মহাভারত ও রামায়নে বহুবার এর উল্লেখ রয়েছে। নামটির সঙ্গে সরাসরি ব্রহ্মা-প্রদত্ত অস্ত্রের সম্পর্ক রয়েছে এবং এটি সামরিক শক্তির সর্বোচ্চ প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
সুদর্শন চক্র হলো বিষ্ণু এবং তার অবতার কৃষ্ণের ঐশ্বরিক অস্ত্র। হিন্দুধর্মে এটি ধর্মরক্ষা, ন্যায় ও অশুভ বিনাশের প্রতীক। বজ্র মূলত বৈদিক দেবতা ইন্দ্রের অস্ত্র। ঋগ্বেদে ইন্দ্র বজ্র দিয়ে বৃত্রকে বধ করেন।