খামেনির জানাজায় ইউরোপকে আমন্ত্রণ জানায়নি ইরান

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় ইউরোপীয় কোনো দেশকে আমন্ত্রণ জানায়নি ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, মূলত যেসব রাষ্ট্র সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পক্ষ নিয়েছে, তাদের এই শোকানুষ্ঠান থেকে দূরে রেখেছে তেহরান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি দল ইরানের প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় মূলত ইরানপন্থী বা নিরপেক্ষ দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিই বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত এই শোকানুষ্ঠানে উপস্থিত বিশ্বনেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, ইরাকের প্রেসিডেন্ট এবং ইরাকি পার্লামেন্টের স্পিকার। এছাড়া তুর্কমেনিস্তানের একটি প্রতিনিধি দল, জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান উপস্থিত ছিলেন।

এই শোকযাত্রায় পাকিস্তানের অংশগ্রহণকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দেশটির পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া রাশিয়ার পক্ষ থেকে দিমিত্রি মেদভেদেভ এবং তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট শোকানুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র স্পষ্ট করেছেন, যেসব দেশ বা অঞ্চল ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত ইসরায়েলি ও মার্কিন সামরিক প্রচারণাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমর্থন জুগিয়েছে, তাদের এই আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানোর কোনো পরিকল্পনা তেহরানের ছিল না। মূলত ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং কঠোর কূটনৈতিক অবস্থানের কারণেই ইউরোপীয় দেশগুলোকে এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

পর্যাবেক্ষক মহল মনে করছেন, খামেনির শেষকৃত্যে এই অংশগ্রহণকারীদের তালিকা ইরানের বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। ইরান বিশ্বমঞ্চে বন্ধুপ্রতিম ও নিরপেক্ষ দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক অটুট রাখার বার্তা যেমন দিয়েছে, তেমনি পশ্চিমা জোটের প্রতি তাদের অনমনীয় অবস্থানটিও পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা