সোনার হাসিতে নতুন স্বপ্ন দেশের জিমন্যাস্টিকসে

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে আন্তর্জাতিক সাফল্যের গল্প বলতে সাধারণত ক্রিকেট, ফুটবল বা শুটিংয়ের নামই আগে আসে। কিন্তু নীরবে-নিভৃতে এগিয়ে চলা জিমন্যাস্টিকস এবার নতুন করে আলোচনায়। সিঙ্গাপুর ওপেন জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের জিমন্যাস্টদের দুর্দান্ত সাফল্য শুধু কয়েকটি পদক জয়ের গল্প নয়, বরং দেশের এই ডিসিপ্লিনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেওয়ার বার্তা। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ, স্বাগতিক সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, চায়না, ফিলিপাইন ও মঙ্গোলিয়াসহ মোট ৯টি দেশের জিমন্যাস্টরা অংশ নেন। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশের তরুণদের আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে, সুযোগ ও পরিচর্যা পেলে তারাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম।

প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আনন্দ আসে ব্যক্তিগত ইভেন্টে। জুনিয়র বিভাগের স্টিল রিংসে ১২.১৫০ পয়েন্ট পেয়ে স্বর্ণ জেতেন উটিং ওয়াং মারমা। একই সঙ্গে ফ্লোর ইভেন্টে ব্রোঞ্জও জিতে নেন তিনি। আর পোমেল হর্সে ১৩.১৫০ পয়েন্ট নিয়ে স্বর্ণ জেতেন মেনটন টনি ম্রো। আন্তর্জাতিক মঞ্চে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে এই দুই তরুণ দেখিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশের জিমন্যাস্টিকসে প্রতিভার অভাব নেই।

বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান জামিলের বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়লে দেশের জিমন্যাস্টরা আরও বড় সাফল্য এনে দিতে পারবেন। সিঙ্গাপুর ওপেনে সেই সম্ভাবনার বাস্তব প্রমাণ মিলেছে।

সোনার পদক জয়ের আনন্দ ক্ষণিকের হলেও তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী। একটি আন্তর্জাতিক সাফল্য যেমন খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, তেমনি নতুন প্রজন্মকেও এই খেলার প্রতি আকৃষ্ট করে।