চুলের স্পর্শে গোল বাতিল!

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর বল ‘ট্রিওন্ডা’ নামের অর্থ যেন সত্যিই হয়ে উঠল বাস্তব। এ বলই হয়ে উঠল আসল নায়ক, যার ভেতরে লুকানো এক অদৃশ্য সেন্সর বদলে দিল গোটা এক ম্যাচের ভাগ্য, ভেঙে দিল একটি জাতির স্বপ্ন। অতিরিক্ত সময়ের ঠিক ১৩তম মিনিট। ঘড়ির কাঁটা যখন প্রায় থমকে যাওয়ার অপেক্ষায়, ঠিক তখনই যোশকো গভার্দিওলের বুটের ছোঁয়ায় জালে জড়াল বল, আর টরন্টোর গ্যালারিতে উত্তাল হয়ে উঠল ক্রোয়েশিয়ার সমর্থকদের উল্লাসধ্বনি। মনে হচ্ছিল বিশ্বকাপের নাটকীয়তম এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখা হয়ে গেছে। কিন্তু সেই উল্লাস স্থায়ী হলো না। কারণ মাঠের মধ্যে ছুটে বেড়ানো বলটির ভেতরে যে বসানো আছে এক নিঃশব্দ সাক্ষী, যে দেখেছে সবকিছু, মনে রেখেছে প্রতিটি স্পর্শের হিসাব।

ম্যাচের ৯৪ মিনিটে গনজালো রামোসের দুর্দান্ত গোলে যখন পর্তুগাল এগিয়ে, তখন হাল ছাড়েনি ক্রোয়েশিয়া। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ প্রান্তে বাঁ দিক থেকে আসা একটি ক্রস মারিও পাসালিচের পা ঘুরে পৌঁছে যায় গভার্দিওলের কাছে, আর সেখান থেকে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি ম্যানচেস্টার সিটির এ ডিফেন্ডার। মুহূর্তেই উৎসবে মেতে ওঠে গোটা ক্রোয়েশিয়া শিবির। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে টিভি পর্দার আড়ালে ভিএআর কক্ষে শুরু হয়ে যায় আরেক নাটক সেই নাটকের কেন্দ্রবিন্দুতে ট্রিওন্ডা।

বিশ্বকাপের এই বলটি স্রেফ চামড়া আর বাতাসে তৈরি কোনো সাধারণ বস্তু নয়। এর ভেতরে লুকানো আছে অত্যাধুনিক এক সেন্সর চিপ, যা প্রতি সেকেন্ডে বহুবার তথ্য পাঠায় সংযুক্ত সিস্টেমে। খালি চোখে যা কখনো ধরা পড়ে না, ট্রিওন্ডার সেই চিপ তা ঠিকই টের পায়। এমনকি চুলের মতো সূক্ষ্ম একটি স্পর্শও। টরন্টোয় ঠিক এ ঘটনার জন্ম হয়। ক্রোয়েশিয়ার আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ইগর মাতানোভিচ লাফিয়ে উঠে মাথা দিয়ে বলটি ছোঁয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু বলটি তার মাথায় স্পর্শ করে কি না সেটি টিভি ক্যামেরার ধীরগতির রিপ্লেতেও এড়িয়ে যায়। কিন্তু ট্রিওন্ডার ভেতরের চিপ নীরবে রেকর্ড করে ফেলে অতি সূক্ষ্ম মুহূর্তটি। এই এক টুকরো তথ্যই বদলে দেয় সবকিছু। ফিফার নিয়মানুযায়ী, সতীর্থের গায়ে বল স্পর্শ করার মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় অফসাইডের নতুন হিসাব। ট্রিওন্ডার পাঠানো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে টানা হয় সেমি-অটোমেটেড অফসাইড লাইন।