গাইবান্ধার প্রধান চার নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলগুলো পানি নিচে ডুবে আছে। পানি কমার ফলে ২৬টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুই সপ্তাহে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অন্তত ৭০০ বাড়িঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। চরাঞ্চলে সড়ক যোগাগোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন। এতে দুর্ভোগ বাড়ছে। তীব্র নদীর ভাঙনে দিকহারা নদী তীরবর্তী মানুষরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কাপাসিয়া, বাংলাবাজার মোড়, চালচামার, বেলকা, হরিপুর, দহবন্দ, শান্তিরাম, শ্রীপুর, চণ্ডিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ফুলছড়ির উপজেলার দক্ষিণ রসুলপুর, গজারিয়া, টেংরাকান্তি, রতনপুর, বানিয়াপাড়া, দেলুয়াবাড়ি, তালতলার খাটিয়ামারিসহ কয়েকটি চরে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। এসব এলাকা কয়েকশ পরিবার অন্য এলাকায় স্থান্তর হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার গত এক সপ্তাহে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ৫ শতাধিক বসতভিটা, আবাদি জমি ও রাস্তাঘাট। ভাঙন আতঙ্কে শত শত ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ডান তীরের পুরাতন বেড়িবাঁধসহ বিস্তীর্ণ এলাকা।
ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রসুলপুর গ্রামের আব্দুল জলিল (৬৫) বলেন, ইতিপূর্বে দুইবার ভাঙনে শিকার হয়েছি। এবার ভাঙনে বাড়িঘর কিছুই পাইনি। গাছপালা সব নদীতে বিলীন হয়েছে। পানি খাওয়ারও কোন ব্যবস্থা নাই। এখন বাধের ওপর যাচ্ছি। কোথাও আশ্রয় নাই। কোন কর্মের ব্যবস্থা নাই । এক বেলা খাই, অন্য বেলা না খেয়ে থাকতে হচ্ছে।
একই গ্রামের হামিমুদ্দিন(৫০) রসুলপুর গ্রাম প্রায় শেষ। এছাড়া চৌমোহন চরের দু’শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। বিলীন হয়েছে চৌমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো। কয়েক একর আবাদি জমি ও অসংখ্য গাছপালা।
ওই গ্রামের ফুলমতি বেগম (৬৫) বলেন, নদীর পানি বাড়লেও ভাঙগে, কমলেও ভাঙে। দুটি ঘরের একটি গেছে নদীতে। বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে বাধে অবস্থান করছি। সব শেষ, কিছুই আর রইল না। তাদের অভিযোগ, বন্যার আগে থেকে যদি নদী শাসন করা হত ,তবে আজ গ্রামগুলো রক্ষা পেত।
পানি উন্নয়ন বোড সুত্র জানায়, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, করতোয়াসহ জেলার সবকটি নদীর পানি কমছে। তবে কিছু এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত জেলায় অন্তত ২৬টি পয়েন্টে ভাঙছে দেখা দিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে কিছু এলাকায় ভাঙন রোধ কাজ শুরু হয়েছে।
সুত্রটি আরও জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার এবং করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চকরহিমাপুর পয়েন্টে ৩৮ সেন্টিমিটার, তিস্তা নদীর পানি রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে শূন্য সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে।
তবে গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত এই পরিমাণ হ্রাস ও বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এসবব বিষয়ে পাউবোর গাইবান্ধা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, বর্ষার শুরুতেই নদ নদীতে যে পানি এসেছে। তা কমতে শুরু করেছে। ব্রহ্মপুত্র, করতোয়া, ঘাঘট ও তিস্তা নদীর ২৬টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জেলার সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। যে সমস্ত এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেসব এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ চলমান রয়েছে। এই আবহাওয়াতে বড় বন্যা হওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই।