মহাসড়কে ডিম ভেঙে খামারিদের প্রতিবাদ

গাজীপুরের শ্রীপুরে ডিমের বাজারে ধস নামায় সিন্ডিকেটের দখলে থাকা আর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার প্রতিবাদে মহাসড়কে ডিম ভেঙে প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছে প্রান্তিক খামারিরা। এ সময় তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং তপ্ত রোদে পুড়ে মহাসড়কে প্রতিবাদসভা করে তারা।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলার জৈনা বাজারে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এই প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবাদ সভায় অভিযোগ করে খামারিরা বলেন, উৎপাদন খরচের তুলনায় ডিমের বাজারমূল্য অনেক কম। এতে প্রান্তিক খামারিরা চরম আর্থিক ক্ষতিতে পড়ছেন। প্রতিদিন ক্ষতি গুনতে হচ্ছে। খাবারে ভর্তুকি দিয়ে মুরগিগুলো বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক খামারি ঋণের জালে আটকা পড়েছেন।

খামারি রাজিবুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন, খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় ডিমের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হোক।

খামারি মাসুদ রানা বলেন, বাজারে কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান ও সিন্ডিকেটের কারণে আমরা উৎপাদিত ডিমের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।  প্রতিদিন ডিমের চাহিদা আছে বিক্রিও হচ্ছে। কিন্তু ন্যায্যা মূল্য পাচ্ছে না ডিম উৎপাদনকারী খামারিরা। এ বিষয়ে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দরকার।

শ্রীপুর ডিম উৎপাদন ও পোল্ট্রি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ডিমের বাজার অনেক খারাপ। এ সময় যার একহাজার ডিমপাড়া মুরগি আছে তিনি প্রতি মাসে ৫০-৬০ হাজার টাকা লস গুনছেন। ডিমের উৎপাদন খরচ ৯ টাকা ৫ পয়সা কিন্তু বিক্রি করছে ৬ টাকা ৫ পয়সা। প্রতিদিন ভর্তুকি দিয়ে টিকে থাকা যায় না। সরকারের নজর দরকার এ শিল্পের দিকে। লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান। বিনিয়োগ হাজার হাজার কোটি টাকা। সরকার নজর না দিলে বিলিন হবে সম্ভাবনাময় এ পোল্টি শিল্প।

ক্ষুদ্র উদ্যাক্তা আবু তালেব জানান, খামারিরা প্রতিদিন খাদ্য আর ওষুধ বাবদ দোকান বাকি বাড়াচ্ছে। ডিম বেচে মুরগির খাবার হয় না। আরও ধার করে মুরগির খাবার যোগান দেয়। তাই ওষুধসহ অন্যন্য খরচ মেটাতে ঋণ বাড়াচ্ছে। দ্রুত এ দিকে নজর না দিলে পোল্টি শিল্প ধংস হয়ে বেকারত্ব বাড়বে।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ ভূঞা বলেন, প্রান্তিক খামারিরা কেউ আমার কাছে আসেনি । তারা আসলে তাদের নিয়ে বসে বিস্তারিত শুনে প্রয়োজনীয় একটা ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবো।