গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পোশাক কারখানায় রাতের বেলায় (নাইট শিফট) কাজ করার সময় অসুস্থ হয়ে এ নারী শ্রমিকের মৃত্যু জেরে কর্মরত শ্রমিকরা সকালে বিক্ষোভ করে সড়ক অবরোধ করেন। প
রে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে কারখানার বেশ কিছু অংশে ভাঙচুর চালিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে উত্তেজিত শ্রমিকদের সাথে কথা বলেন। একসময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের সরিয়ে দেন।
এ দিকে শ্রমিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে অন্তত পাঁচটি পোশাক কারখানায় হামলা চালায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানা হয়। হামলা শিকার অন্য কারখানাগুলো হলো-খাদিজা সাদেক স্পিনিং মিল,এমএইচসি অ্যাপারেলস,লিফগ্রেড লিমিটেড,ট্রিপল অ্যাপারেলস লি. এবং সিজি গামেন্টস।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকালে তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি গ্রামে কালার এন্ড কোং পোশাক কারখানার সামনে শ্রমিকরা সহকর্মী মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ করেন। পরে তারা মাওনা-বরমী আঞ্চলিক সড়ক অন্তত ৩ ঘন্টা অবরোধ করে রাখে। একসময় পুলিশের মধ্যস্থতায় বিক্ষোভ তুলে নেন শ্রমিকরা।
এদিকে দুপুরের দিকে একদল বহিরাগত একত্র হয়ে নাশকতার চিন্তায় আরও বেশ কিছু কারখানায় হামলা ভাঙচুর চালিয়েছে।
নিহত নারী শ্রমিকের নাম লিজা আক্তার(৩৫)। তিনি পিরোজপুরের নাজিরাপুর উপজেলার হোগলা গ্রামের মোহাম্মদ বিদ্যুৎ মিয়ার স্ত্রী। তিনি শ্রীপুরের আনসার রোড এলাকয় একটি ভাড়া বাসায় থেকে চাকরি করতেন।
এদিকে নাশকতার আশঙ্কায় কয়েকটি পোশাক কারখানা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই সেগুলো খোলা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আন্দোলনকারী শ্রমিকরা জানান, আমাদের কালার কোং লিমিটেড কারখানায় বুধবার মধ্যরাতে দিকে নারী সহকর্মী লিজা আক্তার কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগেই তিনি অসুস্থতার কারনে রাতেই ছুটি চেয়েছিলেন।
কিন্তু কর্তৃপক্ষ ছুটি দেয়নি। পরে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে পাঠান। কিন্তু ততক্ষণে তিনি মরা যান। তাদের অভিযোগ কর্তৃপক্ষের অবহেলায় আমাদের ওই সহকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। আমরা তাই ক্ষোভ প্রকাশ করেছি। তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দিতে হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান সকালে নারী ম্রমিকের খবর ছড়িয়ে পড়লে কাজে যোগ দেওয়াশ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসে। এ সময় বরমী মাওনা আঞ্চলিক সড়কটি অন্তত তিন ঘন্টা অবরোধ করে রাখে ক্ষুব্দ শ্রমিকরা। পরে পুলিশ এসে তাদের সাথে কথা বলেন। এতে এ সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
দুর্ভোগে পড়েন পথচারিসহ পরিবহন শ্রমিক ও বাসে থাকা যাত্রীরাও। ক্ষুব্দ শ্রমিকরা কারখানার গ্লাস ভাঙচুর করেছে। তারা বলেন দুপুরের পর কিছু বহিরাগত লোক একত্রিত হয়ে আশপাশের আরও অন্তত পাঁচটি পোশাক কারখানায় হামলা ভাঙচুর চালিয়েছে। অতি উৎসাহি কিছু শ্রমিক তাদের সাথে যোগ দিয়ে হামলা ভাঙচুরে অংশ নেয়। পরে পুলিশ এসে তাদের সরাতে লাঠিচার্জ করেন।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ডা. বিজন মালাকার বলেন, গত বুধবার রাতে লিজা আক্তার নামের এক নারীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরে বিষয়টি পুলিশে জানানো হয়।
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে কারখানার কর্তৃপক্ষের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। কারখানা গেটে গেলেও কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি।
শ্রীপর মডেল থানার ওসি মো. শাহীনুর আলম জানান একজন শ্রমিক ছুটি না পেয়ে কারখানার ভেতরে কাজ করছিলেন। সেখানে তার মৃত্যু হওয়ার জেরে শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এখন তারা কারখানার সামনে বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থান করছে। সেখানে পরিস্থিত স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা আছে।
শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার (গাজীপুর-২) আমজাদ হোসেন জানান- খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে শিল্প পুলিশ দায়িত্বপালন শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠি চার্জ করা হয়েছে। তিনি বলেন নাশকতার আশঙ্কায় কয়েকটি পোশক কারখানা ছুটি ঘোষনা করা হয়েছে। আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। পুলিশ নজর রাখছে। বন্ধ কারখানা দ্রুত খুলে দেওয়া হবে।
১ কোটি ৩১ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ