এইচএসবিসির চাকরিচ্যুতদের সংবাদ সম্মেলন

বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি বাংলাদেশের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে ছাঁটাই ও করপোরেট প্রতারণার অভিযোগ তুলেছে। শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) কার্যালয়ে এইচএসবিসি বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তাবৃন্দ শীর্ষক ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তোলা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এইচএসবিসির সাবেক কর্মকর্তা আলমগীর কবির। এ সময় আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। 

চাকরিচ্যুতরা নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত ৩১ মার্চ এইচএসবিসি বাংলাদেশ রিটেইল ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে। এর ফলে একযোগে ২৫৭ কর্মকর্তা চাকরি হারান। তাদের অনেকেই ১৫ থেকে ২৫ বছর ধরে ব্যাংকটিতে কর্মরত ছিলেন। ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আর চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে শ্রম আইন অনুসরণ না করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে এক ধরনের তথ্য ব্যবহার করা হলেও বাস্তবে কর্মীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংককে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে তারা আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এইচএসবিসি কর্তৃক বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো নথিতে তাদের ‘রিট্রেঞ্চড’ (ছাঁটাই) হিসেবে উল্লেখ করা হলেও কর্মীদের হাতে শ্রম আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী সাধারণ চাকরিচ্যুতির (টার্মিনেশন) চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ছাঁটাইজনিত ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য আইনি সুবিধা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

চাকরিচ্যুতরা জানান, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় একই ধরনের পুনর্গঠনের সময় এইচএসবিসি কর্মীদের তুলনামূলক বেশি ক্ষতিপূরণ দিলেও বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১৫ মাসের বেতনের সমপরিমাণ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এইচএসবিসির বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের ৯টি অভিযোগ আনা হয়।