ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় এক কবির বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বান জানানো হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) তেহরানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত জানাজার মঞ্চ থেকে এ বক্তব্য দেওয়া হয়, যা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
জানাজার সঞ্চালনায় থাকা কবি মোহাম্মদ রাসুলি ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে বলেন, 'পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষটি এখনো কেন বেঁচে আছে?' তাঁর এ মন্তব্যে উপস্থিত জনতা করতালি দিয়ে 'আমেরিকার মৃত্যু' ও 'ইসরায়েলের মৃত্যু' স্লোগান দেয়।
এর আগে জানাজাস্থলে ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার আহ্বানসংবলিত পোস্টার ও ব্যানারও দেখা যায়। যদিও একই সময়ে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।
পরে ৯৭ বছর বয়সী শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জন্য জানাজার নামাজ পরিচালনা করেন। এতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ, বিপ্লবী গার্ডের প্রধান জেনারেল আহমদ বাহিদিসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। ইসরায়েলি হামলায় আহত হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানাজার দ্বিতীয় দিনে প্রথম দিনের তুলনায় অনেক বেশি মানুষের সমাগম হয়। এ সময় ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার আড়াইশতম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী "ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করে দিয়েছে"।
২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর থেকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর হুমকি অব্যাহত রয়েছে। যদিও ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পকে হত্যার কোনো পরিকল্পনার কথা বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। যুদ্ধের কারণে তাঁর জানাজা বিলম্বিত হয়। এদিকে যুদ্ধ-পরবর্তী স্থায়ী সমঝোতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা আপাতত স্থগিত রয়েছে।