কেরানীগঞ্জ

মুসলিমকে হিন্দু পরিচয়ে ভোটার করার চেষ্টা, চক্রের সদস্য শনাক্ত

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ভুয়া তথ্য ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির চেষ্টা করার সময় শরিফুল আলম নামে প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে হাতেনাতে শনাক্ত করেছে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়। নিজের ভুল স্বীকার করায় প্রাথমিকভাবে তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

জানা যায়, নতুন ভোটার নিবন্ধনের আবেদনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি একাধিক চক্র ভুয়া ভোটার তৈরির লক্ষ্যে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসে বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির আশ্রয় নিচ্ছে।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিনে ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে এনআইডির আবেদন করতে আসা একাধিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, কারও স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা ঢাকার বাইরে, কারও পিতা-মাতার পরিচয় ভুয়া, আবার কেউ অন্য ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ব্যবহার করে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেছেন।

এমনই একটি চক্রের এক সদস্যকে মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে সন্দেহজনক কার্যকলাপের সময় আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শরিফুল আলম স্বীকার করেন, জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে তিনি একজন মুসলিম ব্যক্তিকে হিন্দু পরিচয়ে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। শরিফুল আলমের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলী এলাকায়।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, “গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে নতুন ভোটার হওয়ার চেষ্টা বেড়েছে। অনেক আবেদনকারীকে যাচাই-বাছাইয়ের সময় দেখা যায়, তারা কেরানীগঞ্জের বাসিন্দাই নন। এমনকি কেরানীগঞ্জের কোনো এলাকার নামও বলতে পারেন না কিংবা আগে কখনো এখানে বসবাস করেননি।”

তিনি আরও বলেন, ‘কিছু ইউনিয়ন পরিষদ যথাযথ তদন্ত ছাড়াই নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ বা প্রত্যয়নপত্র ইস্যু করে থাকে। এসব সনদের সুযোগ নিয়ে প্রতারক চক্র ভুয়া তথ্য দিয়ে এনআইডির আবেদন করছে। এতে প্রকৃত তথ্য যাচাই করতে নির্বাচন কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হচ্ছে।’

তিনি জানান, নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সন্দেহভাজন আবেদনকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে এবং অনেককে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। তবে বিদ্যমান আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয় না।

নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, ‘ভুয়া তথ্য দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কার্যকর বিচার নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।’