কুকুরের হামলায় হাঁস-মুরগি ও ছাগলের মৃত্যু, আতঙ্কে মানুষ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে কুকুর। উপজেলার দুটি ইউনিয়নে গত এক মাসে কুকুরের হামলায় অন্তত ডজনখানেক ছাগল ও শতাধিক হাঁস-মুরগির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

আক্রান্ত এলাকাগুলোর বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুকুরগুলো দলবেঁধে বিভিন্ন সময়ে গৃহপালিত পশুর ওপর হামলা করছে। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, কুকুরের দল মানুষ দেখেও ভয় পাচ্ছে না। মানুষের সামনেই কখনো হাঁস-মুরগি, আবার কখনো ছাগল টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে ছোট শিশুদেরও আক্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এ নিয়ে ভয়ানক আতঙ্কে দিন কাটছে উপজেলার জামুর্কী ও মহেড়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষের।

জামুর্কী ইউনিয়নের বানিয়ারা গ্রামের খন্দকার রাজিউল মতিন দ্রুব বলেন, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে আমি হাঁস লালন করে থাকি। হাঁসগুলো পুকুরে খাওয়ার জন্য গেলেই দল বেঁধে কুকুর এসে আক্রমণ করে। বিগত এক মাসে কুকুরের হামলায় আমার ৪০–৪৫টি হাঁস মারা গেছে।

একই এলাকার সৈয়দ মোয়াজ্জেম মিয়া বলেন, গত ৪–৫ দিন আগে বাড়ির পাশের ক্ষেতে ঘাস খাওয়ানোর সময় একটি কুকুরের দল আমার তিনটি ছাগলের ওপর হামলা করে। এতে ঘটনাস্থলেই দুটি এবং পরদিন আরও একটি ছাগল মারা যায়।

মহেড়া ইউনিয়নের ডোকলাহাটি গ্রামের আকলিমা বেগম বলেন, দুই দিন আগে আমি পাশে দাঁড়িয়ে থেকে ছাগলকে ঘাস খাওয়ানোর সময় হঠাৎ চারটি কুকুর দলবেঁধে এসে আমার ছাগলের ওপর হামলে পড়ে। কুকুরগুলোর কামড়ে আমার ছাগল ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সদ্য বদলিকৃত) শুভাশিষ কর্মকার বলেন, কুকুর নিধন বা ভ্যাকসিনেশনের বিষয়ে আপাতত কোনো কার্যক্রম চালু নেই। তবে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত পশু-পাখি প্রাণিসম্পদ অফিসে নিয়ে এলে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।