শেকৃবি

৪৭তম বিসিএসে ফলাফল বিপর্যয় শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

বিসিএসে কম্বাইন্ড ডিগ্রির স্বতন্ত্র কোড চালুসহ চার দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নেমেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) অনুষদের শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (৫ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে অনুষদের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম মহবুবউজ্জামান ভবনের নিচে জড়ো হন এবং এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আমরা এই পেশার প্রতি ভালোবাসা এবং দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের সেবার উদ্দেশ্যে এখানে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিসিএস ও কর্মসংস্থানে আমাদের কম্বাইন্ড ডিগ্রির জন্য সুনির্দিষ্ট সাবজেক্ট কোড বা সুস্পষ্ট নিয়োগ নীতিমালা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে ৪৭তম বিসিএসের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় আমাদের অনুষদের যোগ্য প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও টেকনিক্যাল ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হতে পারেননি, যা চরম বৈষম্যমূলক ও অনভিপ্রেত।

তারা উল্লেখ করেন যে অতীতে প্রশাসনের দেওয়া নানা মৌখিক আশ্বাসে তারা সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করলেও এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে এএসভিএম অনুষদের ডিন অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক। আমরা তাদের এই দাবির সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত এবং বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় ও রাষ্ট্রীয় দপ্তরগুলোকে এই বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। আমরা আশা করছি খুব দ্রুতই এর একটি ফলপ্রসূ সমাধান আসবে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক আব্দুল লতিফ বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করছি। কম্বাইন্ড ডিগ্রির এই জটিলতা নিরসনে আমি নিজে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) যাব এবং সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলব। এছাড়া বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ (বিএলআরআই) যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ সংক্রান্ত বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব। প্রয়োজনে আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গেও এ বিষয়ে সরাসরি কথা বলব।

তবে উপাচার্যের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন।

তথ্য অনুযায়ী, ৪৭তম বিসিএসে শেকৃবি থেকে প্রায় ৪০ জনেরও অধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তবে এএসভিএম অনুষদের ১৮ শিক্ষার্থী প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত ভাইভায় অংশ নিলেও টেকনিক্যাল ক্যাডারে তাদের কেউই সুপারিশপ্রাপ্ত হননি।

ভাইভায় অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষার্থীর দাবি, এত সংখ্যক পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার পরও একজনও সুপারিশপ্রাপ্ত না হওয়ায় তাদের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের ধারণা, আবেদন কোড বা সংশ্লিষ্ট কোনো কারিগরি (টেকনিক্যাল) জটিলতার কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। আগের কোনো বিসিএসে আমাদের এমন ফলাফল বিপর্যয় ঘটেনি।