বাংলাদেশে স্বাস্থ্যপ্রযুক্তির নতুন যুগের সূচনা

আন্তর্জাতিক সম্মেলন আইক্যাথ এলএমআইসি-২০২৬ উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আইক্যাথ এলএমআইসি ২০২৬ উদ্বোধন করা হয়েছে।

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশসমূহে সাশ্রয়ী, উপযোগী  ও টেকসই স্বাস্থ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্যপ্রযুক্তিগত বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স ওন অ্যাপ্রোপিয়েট টেকনোলজি ফর হেলথকেয়ার ইন ল-এ্যান্ড মিডল-আইকম কান্ট্রিস(আইক্যাথ এলএমআইসি ) আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়েছে। 

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ ( বিএমপিটি), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ, বিআইবিইএটি লিমিটেড. এবং রিলিভেন্ট সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সোসাইটি ( আরএসটিএস) যৌথভাবে স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে। 

চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল ও গবেষণার এই সমন্বিত উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি খাতে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশে এখনও গ্লুকোমিটার, রক্তচাপ মাপার যন্ত্র, স্টেথোস্কোপ, সার্জিক্যাল ইন্সট্রুমেন্টসহ অসংখ্য সাধারণ মেডিক্যাল ডিভাইস বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যার জন্য প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। অথচ এসব ডিভাইসের একটি বড় অংশ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের সমন্বিত উদ্যোগে সহজেই দেশে উৎপাদন করা সম্ভব।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশীয় উদ্ভাবক, গবেষক ও উদ্যোক্তাদের সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে, যাতে বাংলাদেশে মেডিক্যাল ডিভাইস শিল্প গড়ে ওঠে, আমদানি নির্ভরতা কমে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং বাংলাদেশ স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবনে একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। 

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. আহমেদ জামশীদ মোহাম্মদ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মো. আনোয়ার হোসেন এবং জাতীয় অধ্যাপক এ. কে. আজাদ খান।

দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা উপযুক্ত স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, মেডিক্যাল ডিভাইস, টেলিমেডিসিন এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য টেকসই প্রযুক্তি উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবেন। সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়, সরকার, শিল্পখাত ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং স্বল্প ব্যয়ে স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত স্বাস্থ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারকে উৎসাহিত করা।

সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে সেরিমোনিয়াল চেয়ার অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন ঘোষণা করেন যে, আইক্যাথ এলএমআইসি-এর পরবর্তী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ২০২৭ সালের নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি দেশি-বিদেশি গবেষক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক এবং নীতিনির্ধারকদের আরও বৃহত্তর অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, আইক্যাথ এলএমআইসি-২০২৬ বাংলাদেশে মেডিক্যাল ডিভাইস উদ্ভাবন, গবেষণা, প্রযুক্তি স্থানান্তর, স্থানীয় উৎপাদন এবং স্বাস্থ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।