বিশ্বকাপে মাঠের পারফরম্যান্সে যেমন আলো ছড়াচ্ছেন, ঠিক তেমনি মাঠের বাইরেও এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়ে বসেছেন নরওয়ের ২১ বছর বয়সী উইঙ্গার আন্তোনিও নুসা। আমেরিকার মাটিতে যখন তিনি ব্রাজিলের মতো পরাশক্তিকে বধ করার স্বপ্ন দেখছেন, ঠিক তখনই নিজের দেশ নরওয়েতে তিনি বনে গেছেন এক ‘বেস্টসেলার’ লেখক!
আরবি লাইপজিগের এই তরুণ তারকার লেখা প্রথম কিশোর উপন্যাস তথা আত্মজীবনীমূলক বই "এভরিথিং বিগিনস উইথ আ ড্রিম" (সবকিছুর শুরু একটা স্বপ্ন দিয়ে) গত মে মাসের শেষের দিকে বাজারে আসে। আর বিশ্বকাপ চলাকালীনই বইটি নিয়ে নরওয়েতে রীতিমতো উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, যার ফলে ইতিমধ্যেই বইটির তৃতীয় সংস্করণের মুদ্রণ শুরু হয়ে গেছে।
সাধারণত ফুটবলারদের জীবনীতে কেবল মাঠের ভেতরের গল্প থাকলেও, নুসা তাঁর বইটিকে সাজিয়েছেন তরুণদের গাইডলাইন বা পথপ্রদর্শক হিসেবে। অসলোর কাছে লাংহুসে তাঁর শৈশবের ফুটবল পায়ে প্রথম খড়ি থেকে শুরু করে পেশাদার ফুটবলার হয়ে ওঠার গল্প ফুটে উঠেছে এই বইয়ে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এটি শুধু ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই।
বইটির প্রকাশক ‘জিলডেন্ডাল’ -এর নন-ফিকশন বিভাগের প্রধান রাইডার মিড সোলবার্গ অত্যন্ত গর্বের সাথে জানান: "ইতিমধ্যেই বইটির ২১,০০০ কপিরও বেশি বিক্রি হয়ে গেছে। এটি কেবল একটা ফুটবলের বই নয়। শিশু ও তরুণরা আন্তোনিওর গল্পের সাথে নিজেদের মেলাতে পারছে, তা সে ফুটবল পছন্দ করুক আর না-ই করুক।"
নুসা তাঁর বইয়ের ভূমিকাতেই লিখেছেন, "এই বইটিকে কেবল পায়ের ব্যায়াম হিসেবে নিয়ো না, বরং এটিকে মন ও হৃদয়ের একটি ওয়ার্কআউট হিসেবে বিবেচনা করো।"
ছোটবেলা থেকেই নুসার একটি দারুণ অভ্যাস আছে। প্রতি বছর মৌসুম শুরুর আগে তিনি কিছু কার্ডে নিজের লক্ষ্য বা মোটিভেশনাল বাণী লিখে রাখতেন এবং পুরো বছর সেই লক্ষ্য ছোঁয়ার জন্য লড়তেন। বড় হয়েও তিনি সেই অভ্যাস ধরে রেখেছেন।
মে মাসের বইটিতে নুসা লিখেছিলেন তাঁর শৈশবের নায়ক, ব্রাজিলের মহাতারকা নেইমারের (৩৪) বিরুদ্ধে খেলার স্বপ্নের কথা। কাকতালীয়ভাবে, আজ শেষ ১৬-র ম্যাচে নরওয়ের মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল। নিজের আদর্শের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে নুসা নরওয়েজিয়ান সংবাদপত্র ‘দাগব্লাদেত’-কে বলেন, "আমি আশা করেছিলাম বিশ্বকাপে ওঁর দেখা পাব। এখন আমি ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে এবং তাদের হারিয়ে দিতে উন্মুখ হয়ে আছি।"
চলতি বিশ্বকাপে শেষ ৩২-এর ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে গোল করে নরওয়েকে জেতানো নুসার এই বছরের ‘ম্যাজিক কার্ডে’ ব্রাজিলের বিরুদ্ধে জয়ের কথা লেখা আছে কি না—তা অবশ্য এই তরুণ তুর্কি রহস্য করেই চেপে গেছেন!