ফেনীতে বউ-শাশুড়ি ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন

ফেনীতে গৃহবধূ ও তাঁর শাশুড়িকে ধর্ষণের দায়ে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং আরেক আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খান এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন-সাইফুল ইসলাম ও নিপু কুমার দাস। আর অপরাধে সহযোগিতা করার দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে মো. আজাদ নামে অপর এক আসামিকে। রায় ঘোষণার সময় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত সাইফুল ইসলাম পলাতক থাকলেও বাকি দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত সাইফুল ইসলাম দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের বারাহীগুনী গ্রামের মনু কাজী বাড়ির জয়নাল আবেদীনের ছেলে, একই বাড়ির মৃত মাহমুদ আলীর ছেলে আজাদ ও একই এলাকার জেলে বাড়ির প্রভাত কুমার দাসের ছেলে নিপু কুমার দাস।  

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শাহাব উদ্দিন আহাম্মদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জায়লসকর ইউনিয়নের দক্ষিণ বারাহিগুনী গ্রামের একটি বাড়িতে গভীর রাতে দেওয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে আসামিরা। এরপর তারা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ওই বাড়ির এক গৃহবধূ ও তাঁর শাশুড়িকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এই ঘটনার তিন দিন পর ১১ আগস্ট ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর তদন্ত শেষে দাগনভূঞা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুর রহিম তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত মোট ৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ এই রায় দেন। আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। পলাতক আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যেই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং বাকি দুই আসামিকে কড়া নিরাপত্তায় ফেনী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট সাহাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ মামলায় আদালতে সাতজনের সাক্ষী গ্রহণ করা হয়। চলতি বছরের ২৪ মার্চ উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হয়েছে। ঘটনাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামি সাইফুল ও নিপুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা, আজাদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।