ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারত নিজ ভূখণ্ডে তেল ও গ্যাসের অনুসন্ধান ও উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। আমদানিনির্ভরতা প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছানোয় অর্থনীতি ও জাতীয় সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশটির পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হারদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশীয় সরবরাহ বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়াকে নতুন গতি দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় হরমুজ প্রণালিতে নিষেধাজ্ঞার কারণে বড় ধরণের বিঘ্নের সম্মুখীন হয়েছিল বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG)-এর দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা ভারত। বর্তমানে যুদ্ধবিরতি ও বৈরিতা থামানোর জন্য একটি সাময়িক মার্কিন-ইরান চুক্তি কার্যকর থাকায় উপসাগরীয় জলপথ দিয়ে তেল ও গ্যাস চালান আবারও প্রবাহিত হচ্ছে এবং ভারতে জারি করা জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা ও মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরী সংবাদ সংস্থা এএফপি -কে বলেন, আমরা বর্তমানে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার বর্গ কিলোমিটার (৯৬ হাজার ৫০০ বর্গ মাইল) অনাবিষ্কৃত এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছি।
বৈশ্বিক পরিমাপদণ্ডে ভারত একটি মাঝারি মানের তেল উৎপাদনকারী দেশ। তেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ভারতের অভ্যন্তরীণ অপরিশোধিত তেল উৎপাদন ছিল ২৫.৯৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন। এই উৎপাদন ভারতের অপরিশোধিত তেলের চাহিদার মাত্র ১০ শতাংশ পূরণ করে, যা দৈনিক প্রায় ৫ লাখ ২২ হাজার ব্যারেলের সমান। এই উৎপাদন চিত্রটি ২০১১ সালের দৈনিক সর্বোচ্চ ৯ লাখ ব্যারেল উৎপাদনের চেয়ে অনেকটাই কম।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই তীব্র জ্বালানি সংকটের সময় ভারত তার অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশের সংখ্যা ২৭ থেকে বাড়িয়ে ৪১-এ উন্নীত করে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিল। নতুন এই তালিকায় ইরান, ভেনেজুয়েলা, বেশ কয়েকটি আফ্রিকান দেশ ও রাশিয়ার কাছ থেকে বড় পরিমাণে তেল কেনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।