‘সুবোধ’ এখন ভারতে

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

ঢাকার দেয়াল ছাড়িয়ে এবার ভারতের সিকিমে দেখা মিলেছে রহস্যময় স্ট্রিট আর্টিস্ট ‘হবেকি?’র নতুন গ্রাফিতি। জুনের শেষ দিনে সিকিমের গ্যাংটক-রংপো সড়কের মাঝিতার নালা ব্রিজের একটি কংক্রিটের দেয়ালে আঁকা হয়েছে বহুল আলোচিত ‘সুবোধ’ সিরিজের নতুন চিত্রকর্ম।

প্রায় ২০ ফুট দীর্ঘ গ্রাফিতিটি স্প্রে পেইন্ট ও স্টেনসিলের মাধ্যমে আঁকা হয়েছে। চিত্রকর্মের শেষ প্রান্তে রয়েছে শিল্পীর পরিচিত সিগনেচার ট্যাগ ‘হবেকি?’।

গ্রাফিতিতে দেখা যায়, এলোমেলো লম্বা চুলের সুবোধ একটি ঝুলন্ত হ্যামকে শুয়ে আছেন। হ্যামকটির দুই প্রান্ত বাঁধা কাঁটাতারের সঙ্গে। তার এক হাতে রয়েছে কাটাতার কাটার যন্ত্র, অন্য হাতটি ঝুলে আছে হ্যামকের বাইরে। নিচে রাখা রয়েছে একটি বালতি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরেই তারা ওই দেয়ালে গ্রাফিতিটি দেখতে পাচ্ছেন।

এটি এমন সময়ে প্রকাশ্যে এলো, যখন অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারত থেকে কথিত বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মাত্র দুই দিন আগে দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য আবারও পর্যটক ভিসা চালুর ঘোষণা দেয় ভারত।

‘হবেকি?’র শিল্পকর্ম নিয়ে গবেষণা ও নথিভুক্তির কাজ করা প্রতিষ্ঠান আর্টকনের প্রতিষ্ঠাতা এআরকে রিপন জানিয়েছেন, নতুন এই গ্রাফিতিতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত, কাঁটাতার, কাটাতার কাটার যন্ত্র এবং তিস্তা নদীর পানির বিষয়গুলো প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

তার ভাষ্য, রংপো সিকিমে প্রবেশের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। সেখানে যাতায়াত, পরিচয় যাচাই ও অনুমতির বিষয়গুলো দৈনন্দিন বাস্তবতার অংশ। ফলে এই অবস্থান গ্রাফিতিটিকে শুধু একটি শিল্পকর্ম নয়, বরং সীমান্ত, নিয়ন্ত্রণ ও চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে একটি প্রতীকী বক্তব্যে পরিণত করেছে।

বাংলাদেশে গত প্রায় এক দশক ধরে ‘হবেকি?’ ট্যাগযুক্ত ‘সুবোধ’ সিরিজের গ্রাফিতিগুলো নানা সামাজিক, রাজনৈতিক ও মানবিক ইস্যুতে প্রতীকী বার্তা বহন করে আলোচনায় এসেছে। স্টেনসিলভিত্তিক এই শিল্পধারার প্রতিটি চিত্রকর্মেই থাকে ব্যতিক্রমী কোনো বার্তা বা প্রতিবাদের ইঙ্গিত।

তবে ‘হবেকি?’র প্রকৃত পরিচয় এখনো রহস্যই রয়ে গেছে। শিল্পী কখনো প্রকাশ্যে আসেননি, এমনকি দেয়ালে আঁকা চিত্রকর্মগুলোর মালিকানাও দাবি করেননি। ২০১৭ সালের দিকে ‘সুবোধ’ সিরিজ ব্যাপক আলোচনায় আসে। সে সময় শিল্পীর পরিচয় জানার চেষ্টা করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও। তবে আজও তার পরিচয় অজানাই রয়ে গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত