ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ দাবি করেছেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বাস্তবে ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের স্বীকৃতি দিতে বাধ্য করেছে। আল জাজিরার বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইয়েমেনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আল-নুয়াইমির সঙ্গে বৈঠকে গালিবাফ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বাস্তবে প্রতিরোধ অক্ষে থাকা ইরানের মিত্রদের স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছে এবং এটি এই সমঝোতা স্মারকের অন্যতম অর্জন।’
তিনি আরও বলেন, এই সমঝোতা স্মারক যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি পরাজয় এবং সামরিক ও রাজনৈতিক- উভয় দিক থেকেই প্রতিরোধ অক্ষের জন্য একটি বড় অর্জন।
ইরানের নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক জোট, যা ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ নামে পরিচিত, এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন, গাজার হামাস এবং ইরাকভিত্তিক কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী।
গালিবাফ সতর্ক করে বলেন, ইরানের কোনো দুর্বলতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অনুভব করলে তারা যুদ্ধের পথ বেছে নিতে পারে।
অন্যদিকে, রবিবার ইসনার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নকে গালিবাফ ‘কঠিন হলেও সম্ভব" বলে মন্তব্য করেছেন।
হামাসের এক নেতার সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, সামরিক অঙ্গনে অর্জিত সাফল্যকে সংরক্ষণ ও আরও শক্তিশালী করতে কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে সামরিক অচলাবস্থা দূর করতে হবে।
এদিকে আল জাজিরা, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হামাসের উপদেষ্টা শুরা কাউন্সিলের প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে গালিবাফ বলেন, ‘সামরিক অর্জন সংরক্ষণে কূটনীতিকে কাজে লাগাতে হবে এবং সেই কূটনীতির পেছনে প্রতিরক্ষা সক্ষমতার সমর্থন থাকতে হবে।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার জানাজা অনুষ্ঠানের ফাঁকে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে গালিবাফ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরান জোর দিয়ে দাবি করেছে, যেকোনো চুক্তিতে আঞ্চলিক দেশগুলোর ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান এবং ইরানের মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।