সুপারিশের চেয়ে বেতন কি কমছে? সিদ্ধান্ত হতে পারে সচিব কমিটির বৈঠকে

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় বেতন কাঠামো দুই ধাপে নয়, বরং ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে একবারে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। মূলত অনলাইনে বেতন নির্ধারণী বা ‘আইবাস’ সিস্টেমে সমন্বয় করার জটিলতা এড়াতেই এই চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তবে একবারে বাস্তবায়ন করা হলেও পে কমিশনের মূল সুপারিশের চেয়ে বেতনের হার কিছুটা কমানো হতে পারে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

আজ সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা করছিল সরকার। কিন্তু দুই ধাপে বাস্তবায়ন করলে আইবাস সিস্টেমে জটিলতা তৈরি হবে এবং খরচও বেশি হবে। এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ার আশঙ্কাও থাকে।

বর্তমানে অষ্টম বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮,০০০ টাকা। নবম বেতন কমিশন সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০,০০০ টাকা করার সুপারিশ করেছে।

অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১ থেকে ৯ম গ্রেড পর্যন্ত বেতন বাড়তে পারে ৬০-৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৯০-১০০ শতাংশ। আজকের বৈঠকে কমিশনের বিভিন্ন প্রস্তাবের আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের সময়সূচি, পর্যায়ক্রমিক বেতন সমন্বয় এবং বিভিন্ন ক্যাডার ও শ্রেণির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে কোন কোন প্রস্তাব সরকার গ্রহণ করবে, কোথায় সংশোধন আনবে এবং বাস্তবায়নের রোডম্যাপ কী হবে- এসব বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে। বিশেষ করে বেতন বাড়ার হার কত হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও আজকের বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে নতুন কাঠামোর মূল বেতন চলতি মাসের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে এবং ভাতা কার্যকর হবে ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে।

সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হলে ‘আইবাস’ সিস্টেমে তা সমন্বয় করা বেশ জটিল হয়ে পড়বে। এর ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পরও তাদের পুরোপুরি সন্তুষ্ট করা যাবে না। এ জন্য প্রথম বছরে বেতন এবং পরের বছরে ভাতা সুবিধা বাস্তবায়ন করা উচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ বছর পর বেতন বাড়ানোর কথা থাকলেও ১১ বছর পর তা করা হচ্ছে। তাই সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়েই বেতন বাড়ার হার নির্ধারণ করতে হবে।

উল্লেখ্য, বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, জনপ্রশাসন সচিবসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা রয়েছেন।

কমিটির মূল দায়িত্ব হলো- জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর দাখিল করা প্রতিবেদনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশ করা। কমিটি যথাসময়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী পে স্কেল চূড়ান্ত করবেন।

কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সোমবারের বৈঠকটি হবে চলমান পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা, রাজস্ব আহরণ, মুদ্রাস্ফীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়ভার বিবেচনায় রেখে বাস্তবসম্মত একটি কাঠামো চূড়ান্ত করার দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।