মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আবারও ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। রাজধানী কুয়ালালামপুরের তামান মালুরি নাইট মার্কেটে পরিচালিত অভিযানে বাংলাদেশিসহ সাত দেশের ২০০ বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগকর্তা, আশ্রয়দাতা ও দালালচক্রের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সংবাদমাধ্যম মালয় মেইল ও সিনার হারিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পর টানা দুই সপ্তাহ নজরদারি চালিয়ে রবিবার (৫ জুলাই) ‘অপ কুটিপ’ নামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে কুয়ালালামপুর ও পুত্রজায়া অভিবাসন বিভাগের পাশাপাশি কুয়ালালামপুর সিটি হল (ডিবিকেএল) সহায়তা করে।
কুয়ালালামপুর অভিবাসন বিভাগের পরিচালক হামশা ইনজাউ জানান, অভিযানে মোট ৫০০ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ৪০৭ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন মালয়েশিয়ার নাগরিক ছিলেন। যাচাই শেষে ২০০ বিদেশিকে আটক করা হয়।
আটকদের মধ্যে ১২৫ জন পুরুষ ও ৭৫ জন নারী। তারা বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, চীন, পাকিস্তান ও ভারতের নাগরিক।
রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে অভিযান শুরু হলে অনেক বিদেশি পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে পড়লেও নজরদারিতে থাকা কর্মকর্তারা পরে তাদের খুঁজে বের করেন।
হামশা ইনজাউ বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতেই তামান মালুরি নাইট মার্কেটকে অভিযানের জন্য নির্বাচন করা হয়। কারণ সেখানে নিয়মিত বিপুলসংখ্যক বিদেশির সমাগম ঘটত।
তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান, ভিজিট পাসের অপব্যবহার এবং অভিবাসন পাসের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হামশা ইনজাউ বলেন, তামান মালুরিতেই অভিযান সীমাবদ্ধ থাকবে না। রাজধানীর যেসব নাইট মার্কেটে বিদেশিদের উপস্থিতি বেশি, সেসব স্থানেও ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হবে। কুয়ালালামপুরজুড়ে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, শুধু অবৈধ অভিবাসীদের নয়, তাদের নিয়োগকর্তা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক, এজেন্ট, দালালচক্র এবং যারা অবৈধভাবে আশ্রয় দেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিবাসনসংক্রান্ত অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং পেশাদারিত্ব ও সততার সঙ্গে অভিযান অব্যাহত থাকবে।