পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে টেকনাফ, পাদদেশের বসতি সরাতে মাঠে প্রশাসন

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে গত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত হাজারো মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টেকনাফ পৌরসভাসহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা ও সতর্কতামূলক অভিযান শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকালে টেকনাফ পৌরসভার পুরান পল্লান পাড়াসহ পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে ওঠা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি সংবেদনশীল বসতিগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম অনীক চৌধুরী। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেন।

গণমাধ্যমকে পরিস্থিতি ও সরকারি প্রস্তুতি সম্পর্কে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম অনীক চৌধুরী বলেন, টানা অতিবৃষ্টির ফলে পাহাড়ের মাটির বাঁধন আলগা ও নরম হয়ে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে ধসের ঘটনা ঘটে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় পৌর প্রশাসন, সিপিপি (ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি) ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় আমরা মাঠ পর্যায়ে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালাচ্ছি। ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে মানুষদের সরিয়ে নিতে আমরা মাইকিং এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত রেখেছি।

ইউএনও আরও জানান, দুর্যোগ কবলিত ও স্থানান্তরিত পরিবারগুলোর জন্য উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে আশ্রয়কেন্দ্র পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা পরিবারগুলোর জন্য শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। জানমালের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, বারবার সতর্ক করার পরও যারা স্বেচ্ছায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান ত্যাগ করবেন না, প্রয়োজনে তাদের সুরক্ষার্থে প্রশাসন কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

পরিদর্শনকালে উপজেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা, পৌরসভার প্রতিনিধি, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা উপস্থিত ছিলেন।