প্রধানমন্ত্রীর বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে, মন্ত্রীদেরও একই আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতি মাসে নিজের বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। 

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের অনুসৃত একটি চর্চা অনুসরণ করেই প্রধানমন্ত্রী এ উদ্যোগ নিয়েছেন। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও বেতনের একটি অংশ রাষ্ট্রীয় তহবিলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে সহকর্মী মন্ত্রীদের উদ্দেশে বলেন, বিষয়টি মানা বা না মানা সম্পূর্ণ তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এরপর তিনি জানান, নিজের বেসিক বেতন এক লাখ ১৫ হাজার টাকা থেকে প্রতি মাসে ১১ হাজার ৫০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছেন। 

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বেতন ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার পর সেই অর্থ সরকারি হিসাবে চেকের মাধ্যমে ফেরত দেওয়া হয়। একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি মন্ত্রীদেরও অনুরোধ করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও নিয়মিত নিজের বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে দিতেন, যাতে তা দরিদ্র মানুষের কল্যাণ বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ব্যয় করা যায়। মন্ত্রিসভার সদস্যরা এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিভিন্ন বিষয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমাজের একটি অংশ অতিরিক্ত মুনাফার প্রতি ঝুঁকে পড়ায় স্বাস্থ্যসেবাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। তাঁর মতে, আগে অধিকাংশ সন্তান স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম নিলেও বর্তমানে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের সংখ্যা বেড়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু চক্র ও কিছু স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গর্ভবতী নারীর পরিবারকে নানা ধরনের ঝুঁকির ভয় দেখিয়ে সিজারিয়ান করাতে উদ্বুদ্ধ করে। মা ও নবজাতকের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে নেয়।

চিকিৎসকদের প্রতি নৈতিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের আস্থার অন্যতম বড় জায়গা চিকিৎসক সমাজ। তাই চিকিৎসাসেবায় সততা ও পেশাগত নৈতিকতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুপুষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, অপুষ্টি, অল্প বয়সে বিয়ে এবং মায়েদের শারীরিক দুর্বলতা শিশুদের নানা জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এসব সমস্যা মোকাবিলায় দক্ষ মিডওয়াইফদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরে স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ নতুন জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার নারী নিয়োগ পাবেন এবং তাঁদের বড় একটি অংশ মিডওয়াইফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, যাতে দেশের প্রত্যন্ত এলাকাতেও মাতৃস্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায়।

এ সময় তিনি আরও ঘোষণা দেন, আগামী শনিবারের মধ্যে দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিকে লেবার রুম চালু করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, একজন ধাত্রীকে নিবন্ধন পেতে কমপক্ষে ৪০টি স্বাভাবিক প্রসব পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়। প্রতি বছর প্রায় পাঁচ হাজার আটশ জন দক্ষ ধাত্রী তৈরি হলেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবে তাঁদের অনেকেই পেশায় টিকে থাকতে পারেন না। বেসরকারি হাসপাতালগুলো বছরে প্রায় পাঁচশ জন ধাত্রীকে কাজের সুযোগ দেয়, আর বাকিদের সাধারণ নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে প্রসবকালীন সেবার মান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটির সভাপতি রোজিনা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক হাসনা আখতার এবং বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার হালিমা আখতারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।