বান্দরবানের সিভিল সার্জন মো. শাহীন হোসাইন চৌধুরী এক কোটি টাকার ওষুধ কিনে চার কোটি টাকার বিল তোলার অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সম্মানহানি করতে একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চুসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে মো. শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, একটি চক্র তাঁকে প্রভাবিত করে টেন্ডার হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি। আগে ম্যানুয়ালি টেন্ডার হওয়ায় একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেত। এবার ই-জিপি পদ্ধতি চালু হওয়ায় সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়েই তারা তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।তিনি বলেন, এবার মোট পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ই-জিপি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।
ছয়টি প্যাকেজের মধ্যে একটি পেয়েছে আলমগীর অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং পাঁচটি পেয়েছে এমএসএম। সিভিল সার্জন আরও বলেন, দীর্ঘদিন যারা ম্যানুয়ালি সবাইকে ম্যানেজ করে কাজ ভাগিয়ে নিয়েছে, তারা এবারও সিস্টেমকে প্রভাবিত করে কাজ বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে তিনি অনড় থাকায় ঠিকাদারেরা সুবিধা করতে পারেনি। এ কারণেই তারা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার এ পর্যন্ত ৯৫ শতাংশ ওষুধ ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে শতভাগ সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে।
বিল উত্তোলনের বিষয়ে মো. শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, জুন মাস অর্থবছরের শেষ হওয়ায় এবং কয়েক দিনের মধ্যেই বাকি সরঞ্জাম সরবরাহ শেষ হবে-এ কারণে বিল প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ঠিকাদারকে এক টাকাও পরিশোধ করা হয়নি। বিল এখনো জেলা পরিষদে রয়েছে। ঠিকাদার শতভাগ সরঞ্জাম বুঝিয়ে দেওয়ার পরই বিল পরিশোধ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে এবং যারা ষড়যন্ত্র করেছে, তাদের মুখোশও উন্মোচিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে। সিভিল সার্জনের মতামত নেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।