স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

ক্লিনিকে শনিবারের মধ্যে লেবার রুম না হলে লাইসেন্স বাদ

আগামী শনিবারের মধ্যে ক্লিনিকগুলোতে লেবার রুম না করলে ওই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। গতকাল সোমবার রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, আমরা নির্দেশ দিয়েছি আগামী শনিবারের মধ্যে বাংলাদেশের সব ক্লিনিকে লেবার রুম প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যারা করবে না, তাদের লাইসেন্স বাতিল করে সেই ক্লিনিক বন্ধ করে দেব।’

তিনি বলেন, ‘সুস্থ সবল জনগোষ্ঠী ছাড়া একটা জাতির উন্নয়ন হয় না। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের দেশে বর্তমানে এত মুনাফাভিত্তিক, এত লোভি একটি শ্রেণি গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, যারা শুধু অর্থটাকেই চেনে। মানুষের কল্যাণ চিন্তা করে না, দেশের কথা চিন্তা করে না। আমাদের মায়েরা ভীতির কারণে দালালদের কথা শোনে। এমনভাবে ভয় দেখানো হয়, যেখানে চিন্তা করার কোনো রকম বিকল্প থাকে না। এর হাত থেকে এ জাতিকে আমাদের রক্ষা করতে হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মা-বাবা, আরেক প্রজন্মকে আমরা দেখেছি, আমাদের দাদা-দাদি। তখন তো ক্লিনিক ছিল না দেশে। সিজারিয়ান শব্দের সঙ্গে আমাদের মা-বাবারা পরিচিত ছিলেন না! একেকজন মায়ের ১৩-১৪টা পর্যন্ত বাচ্চা হয়েছে। নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। দ্যাট ওয়াজ দ্য বিউটি অব আওয়ার ভিলেজেস। দ্যাট ওয়াজ দ্য বিউটি অব আওয়ার নিউবর্ন বেবিস। আজকে কিন্তু সেই গ্রামীণ পদ্ধতিটা নেই।’

এই অনুষ্ঠানে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মতো নিজের বেতনের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও তাদের বেতনের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এক অনুষ্ঠানে আমাদের বলেছেন আমার আব্বা (সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান) গরিব মানুষকে সহযোগিতা করার জন্য বা সরকারি কোনো প্রয়োজনে খরচ করার জন্য প্রতি মাসে তার বেতন থেকে ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতেন। আমি কিন্তু বেতন নিচ্ছি, না নিয়ে চলতে পারছি না। আমার বেসিক বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, ১০ শতাংশ হারে আমি ১১ হাজার ৫০০ টাকা প্রতি মাসে বেতন থেকে জমা দিচ্ছি। বেতন যখন অ্যাকাউন্টে আসে, আমি তুলে একটা চেক দিয়ে দিই গভর্নমেন্টের অ্যাকাউন্টে। আমি আপনাদের অনুরোধ করব, আমার আব্বা কাজটা করতেন, আমি করছি; আপনারাও যদি মনে কিছু না নেন বা যদি আপনাদের পক্ষে সম্ভব হয় আপনারাও প্রতি মাসে ১০ শতাংশ আপনাদের বেতনের টাকা সরকারের ঘরে ফেরত দিয়ে দেবেন।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলেছি। খুশি হয়েছি যে উনি আমাদের কাছে অ্যাপ্রোচটা করেছেন।’