উপকূলে ভারী বৃষ্টি চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের সতর্কতা

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি স্থল নিম্নচাপ আকারে ভারতের দক্ষিণ ঝাড়খ- এলাকায় অবস্থান করছে। তবে এর প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ ছাড়া কুতুবদিয়ায় ২৫৪, চট্টগ্রামে ২০৬, বান্দরবানে ১৬৪, চট্টগ্রাম মহানগরের আমবাগানে ১১৫, টেকনাফে ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আজও উপকূলজুড়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে এবং তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আগামী শুক্রবার ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ফোকাস্টিং কর্মকর্তা ড. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশের উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলাগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে এসব এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আমরা সতর্কতাও জারি করেছি। গতকাল দেশের সবচেয়ে বেশি রেকর্ড হয়েছে কক্সবাজারে ২৭৭ মিলিমিটার। 

ড. ওমর ফারুক বলেন, ১১ জুলাইয়ের পর বৃষ্টিপাত কমতে থাকবে। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হলেও খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে তুলনামূলকভাবে বৃষ্টির মাত্রা কম থাকবে।

পাহাড়ধসে জানমাল রক্ষায় চলছে মাইকিং : টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের জীবন ও সম্পদ রক্ষার্থে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রও খোলা হয়েছে। কক্সবাজারে পাহাড়ধসে মৃত্যুর পর গতকাল সকাল থেকে দিনব্যাপী নগরীর আকবরশাহ, মতিঝর্ণা, বাটালি হিলসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়।

জেলা প্রশাসন জানায়, মানুষের জানমাল রক্ষায় পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগরীকে ৫টি জোনে ভাগ করে সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) নেতৃত্বে বিশেষ দল মাঠে নামানো হয়েছে। পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা বৈশাখে বৃষ্টির শুরুর সময় থেকে রেডক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবককে নিয়ে মাইকিং করছি। গতকাল বর্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে আমাদের টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। 

এদিকে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় নগরীর সব আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের আশ্রয়কেন্দ্র ও দ্বিতল স্কুল ভবনগুলোকে প্রস্তুত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পাহাড়সংলগ্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা নাগরিকদের জন্য শুকনো ও রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ১১ জুনের প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড়ধসে ১২৭ জনের মৃত্যুর পর শক্তিশালী পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছিল মৃত্যু বন্ধ করার জন্য। সেই কমিটি গত ১৯ বছরে প্রায় ৩২টি মিটিং করলেও পাহাড়ধসে মৃত্যু ঠেকানোর কৌশল বের করতে পারেনি। মৃত্যু ঠেকাতে শত সুপারিশ ও প্রস্তাবনা এলেও তা বাস্তবায়ন শূন্যতায় সব কাগজে লিপিবদ্ধ হয়ে আছে। তবে সব মিটিংয়ের প্রধান সিদ্ধান্ত ছিল পাহাড়ি এলাকাগুলোতে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। এবার সেই বিচ্ছিন্নের পরিবর্তে জনসচেতনতাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।