সাভারে নাহিদ-আখতারের সমাবেশে ককটেল হামলা

সাভারে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ পরবর্তী সমাবেশে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে চারজন আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার রাত পৌনে ১০টায় সাভার থানা স্ট্যান্ড ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ চলাকালে এ বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলে থাকা এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাত এ তথ্য জানান। এতে সমাবেশে আসা লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন।

এ ঘটনার জন্য প্রশাসনকে দায়ী করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, স্পষ্টভাবে আজকের এই বোমা বিস্ফোরণ প্রশাসনের সহায়তায় হয়েছে। কেন বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল? স্পষ্টভাবে আমাদের খুন করার পরিকল্পনায় এখানে বোমা বিস্ফোরণ করা হয়েছে। তবে এ ধরনের হামলায় তারা ভীত নন এবং জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

ইয়াসির আরাফাত জানান, রাত ৯টার দিকে সমাবেশস্থলের মঞ্চে ওঠেন এনসিপির নেতারা। এ সময় বিদ্যুৎ চলে যায়। এর মধ্যে দলের মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইফ নাহিদ ইসলাম বক্তব্য দেন। এরপর ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য প্রদানকালে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় মঞ্চে নাহিদ ইসলাম ছাড়াও এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এতে লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন শাহীন খান্দকার (৩০), জসিম (২৬) ও শাহাদাত হোসেন (৪০)। তাদের মধ্যে শাহীন সাভার এনাম মেডিকেল কলেজের কর্মী, জসিম একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং শাহাদাত হোসেন সাভারের মুক্তির মোড় এলাকার বাসিন্দা। আহত আরেকজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তারা সবাই এনাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছেন।

এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএমও ডা. হাসান বলেন, আমরা চারজন রোগী পেয়েছি। এর মধ্যে তিনজনকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিয়ে অস্ত্রোপচারের জন্য পাঠানো হয়েছে। একজনের পায়ে গুরুতর আঘাত ছিল। অপরজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার কিছুক্ষণ পর নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এনসিপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সাভার থানার সামনে যান। এ সময় থানার প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম ও আখতার হোসেন থানার ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে তারা পুলিশ পাহারায় সেখান থেকে বেরিয়ে আহতদের দেখতে হাসপাতালের দিকে যান। এদিকে রাত ১১টার দিকে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, হামলার ঘটনায় এনসিপির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হামলার জন্য প্রশাসনকে দায়ী করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সাভার থেকে আমরা আগস্টে কর্মসূচি সমাপ্ত করছিলাম। তারা বিদ্যুৎ বন্ধ করে এখানে বোমা ফাটিয়েছে। এই পদযাত্রাকে বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের সহায়তায় বোমা বিস্ফোরণ করা হয়েছে। এই সরকারকে, এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই জবাব দিতে হবে। কেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলেন না, তার জবাব দিতে হবে। এনসিপির কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। আমরা এর বিচার চাই। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচার নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে এখানকার স্থানীয় প্রশাসন এবং এমপিকে আমরা জবাবদিহিতার আওতায় আনব।