বরিশালে রিহ্যাবের এক সদস্যকে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর আদায়ের অভিযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা, ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আবাসন খাতে নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিতে চার দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল সোমবার রিহ্যাবের বোর্ড রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান রিহ্যাব সভাপতি ড. আলী আফজাল। অনলাইনে যুক্ত ছিলেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বাকলা ডেভেলপার্স প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল আজিজ হাওলাদার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সহসভাপতি এএফএম ওবায়দুল্লাহ, পরিচালক শেখ কামাল, হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ।
ড. আলী আফজাল বলেন, সম্প্রতি বরিশালে রিহ্যাবের সদস্য প্রতিষ্ঠান বাকলা ডেভেলপার্স প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল আজিজ হাওলাদারের ওপর অমানবিক শারীরিক নির্যাতন, সংবেদনশীল অঙ্গে আঘাত, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর আদায়ের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
রিহ্যাব সভাপতি বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নেওয়া পদক্ষেপ রিহ্যাব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। ভিডিওতে যে দৃশ্য দেখা গেছে, তা শুধু একজন উদ্যোক্তার ওপর হামলাই নয় বরং নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশের ওপরও আঘাত।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এজন্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত জামিনের চেষ্টা এবং ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
রিহ্যাব সভাপতি বলেন, মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলার সময় ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা কোনো ধরনের চাপ বা ভয় ছাড়াই আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন।
অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রিহ্যাব কোনো ঘটনাকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে না। কেউ কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সেটি বিবেচ্য নয়। অপরাধ করলে তার পরিচয় নয়, কর্মকা-ই বিচার্য হওয়া উচিত। একইভাবে কোনো ডেভেলপার অন্যায় করলেও তার বিরুদ্ধেও আইনের মাধ্যমেই ব্যবস্থা নিতে হবে, জোরজবরদস্তির মাধ্যমে নয়।