মহাসমাবেশ ডেকেছে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৮ এএম

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক থেকে লুট হওয়া অর্থ উদ্ধার এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে আগামী ১৮ জুলাই রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় গ্রাহক মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

গতকাল সোমবার রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক নুরুন্নবী মানিক বলেন, গত ২৪ মে থেকে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা সুশাসন, স্থিতিশীলতা ও আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। গত ১৭ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহমদ ও ড. ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে তারা দ্রুত একটি সৎ, যোগ্য ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের তারল্য সংকট মোকাবিলায় কিছু তহবিল সরবরাহ করায় গ্রাহকদের মধ্যে আংশিক স্বস্তি ফিরে এসেছে। সম্প্রতি, ব্যাংকগুলোর মালিকদের সংগঠন বিএবি এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন এবিবিও ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার সুপারিশ করেছে। তাদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের সংকটের সমাধান না হলে পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে স্বাধীন ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন, ২০১৭ সালে কেড়ে নেওয়া মালিকানা প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত ও অপপ্রচার বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে এনে ব্যাংকের দায় পরিশোধ, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা বাতিল এবং জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে দেওয়া বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়; এটি দেশের কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত, বিশ্বাস ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। তাই সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। দাবি আদায়ে পরের কর্মসূচি হিসেবে আগামী ৯ জুলাই দিলকুশার ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল, ১৪ জুলাই জেলা শহরগুলোর শাখার সামনে অবস্থান কর্মসূচি এবং ১৮ জুলাই শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে জাতীয় গ্রাহক মহাসমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত