হানি ট্র্যাপে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৫

রাজধানীতে হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় চক্রের সদস্যদের কাছ থেকে ৯টি মোবাইল ফোন, একটি ওয়াকিটকি ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেনÑ আনোয়ার হোসেন, বদিউজ্জামান শাহীন, মরিয়ম, শাহাদাত হোসেন ও ঊর্মি বেগম।

গতকাল সোমবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়ে ডিএমপির ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের (দক্ষিণ) উপ-কমিশনার তরিকুল ইসলাম বলেন, চক্রটি মূলত ব্যবসায়ী এবং চাকরিজীবী এই দুই শ্রেণির পেশাজীবীদের টার্গেট করত। এরপর টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে আগেভাগে তথ্য সংগ্রহ করত। তিনি বলেন, ‘যে মোবাইল থেকে ভিডিও করেছে, সেই মোবাইল আমরা উদ্ধার করেছি।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঋণ বিতরণকারী এক কর্মকর্তা গত ১৫ এপ্রিল ঋণসংক্রান্ত কাজে রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীর একটি মার্কেটে গেলে সেখানে এক নারী নিজেকে ঋণগ্রহীতা পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে পরিচিত হন। পরে মোবাইলে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে ওই কর্মকর্তাকে দেখা করার প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন, নির্ধারিত স্থানে পৌঁছালে ভুক্তভোগী ওই কর্মকর্তাকে আরেক নারী রিকশায় করে খিলগাঁও এলাকার একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। সেখানে আরও চারজন উপস্থিত হয়ে তাকে মারধর করে এবং একপর্যায়ে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে। এ সময় ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, নগদ টাকা, এটিএম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়। পরে চক্রটি ভুক্তভোগীর কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং তার ব্যাংক হিসাব থেকে বিকাশ ও উপায়ের মাধ্যমে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে। একই সঙ্গে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রতারণা করে। এ ঘটনায় গত ২২ জুন খিলগাঁও থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী।

মামলার তদন্তের ভিত্তিতে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের একটি দল গত কয়েকদিন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটিকে গ্রেপ্তার করে। ডিবি জানায়, সম্ভাব্য আরও ভুক্তভোগী ও চক্রটির অন্যান্য সদস্যকে শনাক্তে তদন্ত চলছে।