৩০ লাখ টাকা পেল ওয়ার্কশপে হাত হারানো শিশু নাঈম

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৯ এএম

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে ডান হাত হারানো শিশু নাঈম হাসানকে ১৫ লাখ টাকার চেকসহ ৩০ লাখ টাকা দিয়েছে মালিকপক্ষ। গতকাল সোমবার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্কশপের মালিকপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ। আদালতে শিশুটির পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ওমর ফারুক। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, নাঈমকে ৩০ লাখ টাকা দিতে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগে বহাল থাকার পরও মালিকপক্ষ দেড় বছর টাকা দিতে গড়িমসি করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা হয়। আজকে (গতকাল) তারা হাজির হয়ে আদালতে কাছে ক্ষমা চান এবং বাকি ১৫ লাখ টাকার চেক নাঈমের হাতে তুলে দেয়। তিনি জানান, গতকালসহ তিন দফায় এ অর্থ নাঈমকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

২০২০ সালের ১ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘ভৈরবে শিশুশ্রমের করুণ পরিণতি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, ১০ বছর বয়সী নাঈম হাসান চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামে। তার বাবা আনোয়ার হোসেন জুতার ব্যবসা করেন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আনোয়ার হোসেন কর্মহীন হয়ে পড়লে সংসারের চাপ সামলাতে নাঈমকে ভৈরবের একটি ওয়ার্কশপে কাজে দেন। ওই ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে তার ডান হাতটি মেশিনে ঢুকে যায়। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনুই থেকে তার ডান হাতটি বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে হয়।

প্রকাশিত প্রতিবেদনটি যুক্ত করে ভুক্তভোগী শিশু নাঈমকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে শিশুটির বাবা হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ২৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট শিশুটিকে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রশ্নে রুল দেয়। ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি হাইকোর্টের রায়ে ১৫ লাখ টাকা করে ১০ বছর মেয়াদি দুটি ফিক্সড ডিপোজিট করে দিতে ওয়ার্কশপের মালিক ইয়াকুব হোসেনকে নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি শিশুটির এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে সাত হাজার টাকা করে দিতে মালিকপক্ষকে নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে মালিকপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলে আপিল বিভাগ একই বছরের ১৯ নভেম্বর হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। ইয়াকুব হোসেনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত