ফিফার পক্ষপাতিত্বের বিরুদ্ধে মাঠেই 'ইনসাফ' প্রতিষ্ঠা করল বেলজিয়াম

মাঠের বাইরের চরম রাজনৈতিক ও আইনি নাটকীয়তা মাঠের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাবই ফেলতে পারল না। মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া নিয়ে বিশ্বফুটবলে তৈরি হওয়া তুমুল বিতর্ককে পায়ে পিষে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে বেলজিয়াম। শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে বেলজিয়ানরা।

এই হারের ফলে মেক্সিকো ও কানাডার পর তৃতীয় সহ-স্বাগতিক দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল যুক্তরাষ্ট্র। আগামী শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেসে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম।

ম্যাচ শেষে বেলজিয়ামের মিডফিল্ডার নিকোলাস রাস্কিন ফিফার অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন-

“আমি সবসময় বিশ্বাস করি জীবনে কোথাও না কোথাও ইনসাফ বা ন্যায্যতা থাকেই। আপনি মাঠের বাইরে যা খুশি তা-ই করতে পারেন, কিন্তু ফিফার ওই সিদ্ধান্তটি মোটেও ফেয়ার ছিল না। আজ মাঠের জয়ই আমাদের সেই ইনসাফ এনে দিয়েছে।”

বিতর্কের রেশ ধরে বেলজিয়ামের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে রোমেলু লুকাকুর গোল উদযাপনের একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশন দেওয়া হয়, 'ওভারটার্ন দিস' (এবার এটিও বাতিল করে দেখাও)।

ম্যাচের খুঁটিনাটি: বেলজিয়ামের গোলবন্যা

ওয়াশিংটনের সিয়াটল স্টেডিয়ামে স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বেলজিয়াম। ম্যাচের শুরুতেই নার্ভাস যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগের সুযোগ নিয়ে নিকোলাস রাস্কিনের ক্রস থেকে সহজ ট্যাপ-ইনে বেলজিয়ামকে এগিয়ে দেন চার্লস ডি কেটেলারে।

বালোগুন একটি ফ্রি-কিক আদায় করেন, যা থেকে মালিক টিলম্যানের ডিফ্লেক্টেড শট মার্কিনদের সমতায় ফেরায়। কিন্তু এই স্বস্তি এক মিনিটও স্থায়ী হয়নি স্বাগতিকদের। ডি কেটেলারে তার দুর্দান্ত হেডে বেলজিয়ামকে আবারও লিড এনে দেন।

৫৭তম মিনিটে মার্কিন গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রেসের এক মারাত্মক ভুলে বল পেয়ে যান বদলি খেলোয়াড় হান্স ভানাকেন, যা থেকে তিনি দলের তৃতীয় গোলটি করেন।

যোগ করা সময়ে বেলজিয়ামের হয়ে চতুর্থ ও শেষ গোলটি করে মার্কিনদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু।