সব দীর্ঘ লড়াইয়েরই একটা শেষ থাকে। শেষটা কোটি ফুটবলপ্রেমীদের না চাওয়া ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোরও হলো। নকআউট পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে যখন সমানে সমানে লড়ছিল পর্তুগাল, ঠিক তখনই শেষ মুহূর্তের এক স্তব্ধতায় বদলে গেল সব দৃশ্যপট। মিকেল মেরিনোর অন্তিম মুহূর্তের গোলটি কেবল স্পেনকে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটই দেয়নি, বরং পর্তুগিজ ফুটবলের সবচেয়ে সফলতম অধ্যায়ের ওপর টেনে দিয়েছে এক বিষাদের পর্দা।
যেমনটা ম্যাচের আগে বলেছিলেন, ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে এসে রোনালদো যখন আবার নিশ্চিত করলেন—এটিই ছিল তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ, তখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি ভক্তের বুকে তা এক গভীর দীর্ঘশ্বাস হয়ে আছড়ে পড়ে। তবে বিশ্বকাপ অধরা থাকার আক্ষেপ উবে দিতেই যেন বুক চিতিয়ে সিআরসেভেন বলেন, ‘আমি পর্তুগালের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অভিষেকের আগে পর্তুগাল কিন্তু একটা ট্রফিও জেতেনি। ২০১৬ সালের ইউরো জয়ই ছিল পর্তুগালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জন, যা ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে একটি বিশ্বকাপ জয়ের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।’
বিদায়ের এই কঠিন রাতে আবেগাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি আরও যোগ করেন, ‘এভাবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়াটা ভীষণ কষ্টের। আমি আমার সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি। নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়েছি, তাই পরিষ্কার বিবেক নিয়েই মাঠ ছাড়ছি।’
তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে এখনই পুরোপুরি সরে দাঁড়াচ্ছেন কি না, তা নিয়ে এই মুহূর্তে কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নিতে চান না আল-নাসরের এই ফরওয়ার্ড। ম্যাচ শেষের উত্তেজনার মাঝে কোনো তাড়াহুড়ো না করে আপাতত কিছুটা সময় নিজের পরিবারের সাথে কাটাতে চান তিনি। দেশের হয়ে দীর্ঘ দুই দশকের পথচলায় নিজের অর্জনের খতিয়ান মনে করিয়ে দিয়ে রোনালদো কিছুটা আত্মবিশ্বাসের সুরেই বলেন, ‘আমি পর্তুগালের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অভিষেকের আগে পর্তুগাল কিন্তু একটা ট্রফিও জেতেনি। ২০১৬ সালের ইউরো জয়ই ছিল পর্তুগালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জন, যা ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে একটি বিশ্বকাপ জয়ের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।’
বিদায়ের এই কঠিন রাতে কোচ রবার্তো মার্তিনেসের পদত্যাগের ঘোষণায় কোচের প্রতিও শ্রদ্ধা জানাতে ভোলেননি ইউরো ও নেশনস লিগ জয়ী এই তারকা। তার মতে, পর্তুগাল এই ম্যাচে যোগ্য দল হিসেবেই খেলেছিল, তবে ভাগ্য সহায় না থাকায় ম্যাচটি হাতছাড়া হয়েছে।
যিনি যুগের পর যুগ ধরে বিশ্ব ফুটবলের মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তার এই বিদায় ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে এক বড় শূন্যতার জন্ম দিল। খেলা তার নিজের নিয়মেই এগিয়ে যাবে, বৈশ্বিক মঞ্চে আবার নতুন কোনো তারকার জন্ম হবে, কিন্তু লাল-সবুজ জার্সির সেই বিখ্যাত ৭ নম্বর পিঠের গতিময় দৌড় আর অতিমানবীয় গোল উদযাপনের চেনা ভঙ্গি বিশ্বকাপের মঞ্চে আর কখনো দেখা যাবে না। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই গোলমেশিনের বিশ্বমঞ্চ থেকে এমন নিঃসঙ্গ বিদায় কোটি ভক্তের মনে এক চিরন্তন আক্ষেপের গল্প হয়েই থেকে যাবে।