আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্সে 'তৃপ্ত' স্কালোনি, এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০১:২৪ পিএম

‎বিশ্বকাপের শেষ ১৬'র ম্যাচে মিশরের  বিপক্ষে ম্যাচে একাদশে একটি পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস শুরু থেকেই খেলবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

‎এর আগের ম্যাচগুলোতে কেন আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে খেলেছেন, তার ব্যাখ্যা দিয়ে কোচ বলেন:

‎'লিয়ান্দ্রো ইনজুরি নিয়ে এসেছিল, বিষয়টি খুবই সাধারণ। ও যখনই ভালো বোধ করেছে, খেলেছে। ও দলে ফেরার জন্য অনেক বড় চেষ্টা করেছে। তবে ও যখন মাঠে থাকে, দলের খেলার ধরন বদলে যায়। দল ওর পায়ে বল থাকলে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে এবং আমাদের পাসগুলো আরও বেশি খাড়া হয়। ও আমাদের জন্য একটি অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ।"

‎কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে ১২০ মিনিটের ম্যারাথন লড়াই করতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। ৩৯ বছর বয়সেও অধিনায়ক লিওনেল মেসি সেই ধকল কাটিয়ে সম্পূর্ণ ফিট আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন স্কালোনি, "১২০ মিনিট খেলার পরও লিও ভালো আছে, ও কোনো সমস্যার কথা বলেনি। আর ও যদি কিছু না বলে থাকে, তার মানে ও খেলবে।"

‎কেপ ভার্দে ম্যাচের উদাহরণ টেনে স্কালোনি বলেন, মাঠে যখন কৌশল বা স্ট্র্যাটেজি কাজ করে না, তখন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা তাদের স্বভাবজাত লড়াকু মানসিকতা দিয়ে জয় ছিনিয়ে আনে।

"মাঝে মাঝে ট্যাকটিক্স একপাশে সরিয়ে রেখে লড়াকু চেতনা দেখাতে হয়। এই দলের ভেতরে সেই গুণটি আছে। যদি গত ম্যাচে আমরা আমাদের এই চারিত্রিক দৃঢ়তা না দেখাতাম, তবে এতক্ষণে আমরা বিদায় নিতাম," বলেন আর্জেন্টাইন বস।

‎আজকের প্রতিপক্ষ মিশরকে বেশ সমীহ করছেন স্কালোনি। মাত্র ১টি ম্যাচ জিতলেও আফ্রিকান এই পরাশক্তি তাদের প্রতিটি প্রতিপক্ষকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছে। মোহাম্মদ সালাহকে একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড় আখ্যা দিয়ে স্কালোনি বলেন, সালাহকে আটকানোর জন্য তারা বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং তাড়াহুড়ো না করে বল পজেশন ধরে রেখে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করবেন।

‎বিশ্বকাপের সার্বিক মান এবং ফেভারিট দলগুলোর পারফরম্যান্স নিয়ে স্কালোনি তার আগের বক্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি বলেন, প্রাক-বিশ্বকাপের ফেভারিট দলগুলো এখন আশানুরূপ ফুটবল খেলছে না।

‎"আর্জেন্টিনার খেলার মান এখন পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য। আমরা চারটির মধ্যে চারটি ম্যাচই জিতেছি এবং এটি সন্তুষ্ট হওয়ার মতো কারণ। তবে এই বিশ্বকাপটি সবার জন্যই জটিল। ফ্রান্সের মতো দলও প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কষ্ট করে জিতেছে, স্পেনেরও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঘাম ছুটেছে। ভ্রমণ, প্রচণ্ড গরম, দুপুরের ম্যাচ এবং মাঠের ঘাসের কন্ডিশন—সব মিলিয়ে দলগুলোর পক্ষে শ্রেষ্ঠত্ব দেখানো কঠিন হয়ে পড়ছে। খেলোয়াড়দের পায়ে অনেক ম্যাচের ক্লান্তি জমেছে, তাই কেউ পুরোপুরি নিখুঁত ফুটবল খেলতে পারছে না।"


×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত