যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপের মধ্যেই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় শুরু হয়েছে ন্যাটোর দুই দিনব্যাপী শীর্ষ সম্মেলন। মঙ্গলবার (৬ জুলাই) জোটের ৩২ সদস্য দেশের নেতারা এতে অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট রাখা এবং জোটের ঐক্য অটুট রাখাই অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্মেলন শুরুর আগে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে সদস্য দেশগুলোর প্রতি প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির জন্য 'স্পষ্ট, বাস্তবসম্মত ও বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা' উপস্থাপনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ট্রাম্প আশা করছেন সব সদস্য দেশ দ্রুত জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে।
সম্মেলনের পাশাপাশি আয়োজিত প্রতিরক্ষা শিল্প ফোরামে সদস্য দেশগুলো কয়েক হাজার কোটি ইউরোর নতুন অস্ত্রচুক্তি ঘোষণা করবে। এর মাধ্যমে তারা ট্রাম্পকে দেখাতে চায় যে, প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তারা আন্তরিক।
এবারের সম্মেলনে ইউক্রেনের জন্য চলতি ও আগামী বছরে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ইউরোর সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত আগে দেওয়া অঙ্গীকারেরই পুনরাবৃত্তি।
যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি কমানোর পরিকল্পনাও এগিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে ইউরোপীয় মিত্রদের নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
ন্যাটোর কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ধারণা, এবারের সম্মেলনের যৌথ ঘোষণা সংক্ষিপ্ত হবে এবং জোটের পারস্পরিক নিরাপত্তার মূলনীতি, এক সদস্যের ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আঙ্কারা সম্মেলনের সাফল্য বড় কোনো নতুন ঘোষণার ওপর নির্ভর করবে না; বরং ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধ এড়িয়ে ন্যাটোর ঐক্য বজায় রাখা এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর দৃশ্যমান অগ্রগতিই হবে সবচেয়ে বড় অর্জন।