পুলিশ কর্মকর্তার ৩০০ কোটির অবৈধ সম্পদ, তেলেঙ্গানায় তোলপাড়

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রায় ৩০০ কোটি রুপি মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্যের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা (এসিবি)।

সোমবার সন্ধ্যায় ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) সানকিরেড্ডি ভীম রেড্ডিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের মামলা করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

এসিবির কর্মকর্তারা একাধিক স্থানে তল্লাশি শেষ করার পর ওইদিন সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৪০ মিনিটে হায়দরাবাদের ইব্রাহিমবাগ এলাকার ভেসেলা মেডোজে অবস্থিত বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন।

পরে তাকে এসিবির বিশেষ আদালতে হাজির করার কথা জানানো হয়। এসিবির অভিযোগ, চাকরিকালীন সময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে এবং বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে ভীম রেড্ডি তার বৈধ আয়ের তুলনায় বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

কয়েক দিন আগে এসিবি একযোগে তার বাসভবনসহ তেলেঙ্গানা ও কর্নাটকের মোট ১৬টি স্থানে অভিযান চালায়। এসব স্থানের মধ্যে তার আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, কথিত বেনামি মালিক এবং সহযোগীদের সম্পত্তিও ছিল। তল্লাশিতে কর্মকর্তারা নিম্নলিখিত সম্পদের সন্ধান পান- হায়দরাবাদের ভেসেলা মেডোজে একটি বিলাসবহুল ভিলা। 

টেলিকম নগরে জি+২+পেন্টহাউস বিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবন। সাই প্রভা রেসিডেন্সিতে একটি ফ্ল্যাট। গাচিবাউলির ক্রান্তি সিওন অ্যাপার্টমেন্টে একটি ফ্ল্যাট। মানিকোন্ডার ল্যাঙ্কোহিলস রোডে ৫০০ বর্গগজ জমির ওপর নির্মিত একটি জি+৫ বাণিজ্যিক ভবনের অংশীদারত্ব। মানিকোন্ডা মারিচেত্তু জংশনের কাছে প্রায় ৩ হাজার বর্গফুটের একটি বাণিজ্যিক জায়গা।

টেল্লাপুরের অভিনন্দা রেসিডেন্সিতে দুটি ফ্ল্যাট। প্রগতি রিসোর্টস এলাকায় ৫০০ বর্গগজের একটি খালি প্লট। সাঙ্গারেড্ডির জহিরাবাদে সাড়ে ৩ একর কৃষিজমি। কর্নাটকে ৬ একর কৃষিজমি। কর্নাটকেই আরও ৩৮ একর কৃষিজমি। 

ব্যাঙ্গালোরের দেবনাহাল্লিতে ১ একর জমি। নাগোলের কামিনেনি হাসপাতালের কাছে ২০০ বর্গগজের একটি প্লট। পাটানচেরুর জিপিআর হাউজিং সোসাইটির কাছে ৪০০ বর্গগজের একটি প্লট। পাটানচেরুতেই আরও ২০০ বর্গগজের একটি প্লট। বিকারাবাদের মোমিনপেটে ১ হাজার বর্গগজের একটি জমি। মোমিনপেটে ২ একর কৃষিজমি। 

শ্রী রাঘবেন্দ্র রক স্যান্ড মিনারেলস নামের প্রতিষ্ঠানে ৭৫ লাখ রুপির বিনিয়োগ। সিসি কুন্তা এলাকার মুচিন্তালা গ্রামে ৪ দশমিক ২০ একর কৃষিজমি। নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও রুপা। তল্লাশিতে ভীম রেড্ডির বাড়ি থেকে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার রুপি নগদ উদ্ধার করা হয়।

এসিবির কর্মকর্তারা বলছেন, এই ডায়েরিটি মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে কাজ করেছে। এর মাধ্যমে তারা একাধিক সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের সূত্র খুঁজে পান।

গত ২রা জুলাই দুর্নীতির অভিযোগে ওই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৬টি স্থানে অভিযান চালানো হয়। পরে ৬ জুলাই, সোমবার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। উল্লেখ্য, মামলার তদন্ত এখনও চলছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ভীম রেড্ডি আইনগতভাবে অভিযুক্ত, দোষী সাব্যস্ত নন।