বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আটলান্টার মাঠে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া আর্জেন্টিনার ওপর দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি বড় ধাক্কা আসে, যখন মিশরের মোস্তফা জিকো বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান ২-০ করে ফেলেন।
তবে স্বস্তির বিষয়, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি-এর হস্তক্ষেপে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। আর এই গোল বাতিলের পেছনে ফুটবল নিয়মের একটি বিশেষ টার্ম কাজ করেছে, যার নাম এপিপি (অ্যাটাকিং পোসেসন ফেজ)। শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তটি ম্যাচের টার্নিং পয়েন্টে পরিণত হয় এবং আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে এক মহাকাব্যিক জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে।
ম্যাচের ৫৭ মিনিটে ঘটনাটি ঘটে। আর্জেন্টিনার ডি-বক্সের বাইরে ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেসের ডান পায়ে বুট দিয়ে আঘাত করেন মিশরের মারওয়ান আতেয়া। লিসান্দ্রো মাঠে পড়ে গেলে বলের নিয়ন্ত্রণ নেয় মিশর। সেখান থেকে হাইসেম হাসানের গতিময় দৌড় এবং মোহাম্মদ সালাহর পাস হয়ে বল পান মোস্তফা জিকো। জিকো সহজেই পরাস্ত করেন এমিলিয়ানো 'দিবু' মার্তিনেসকে।
গোল হওয়ার পরপরই মূল রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েকে সতর্ক করেন ভিএআর-এর দায়িত্বে থাকা জেরোম ব্রিজার্ড। স্ক্রিনে রিপ্লে দেখার পর রেফারি স্পষ্ট দেখতে পান যে, মিশরের খেলোয়াড় বল স্পর্শ না করে সরাসরি লিসান্দ্রোর পায়ে আঘাত করেছিলেন। ফলে তিনি গোলটি বাতিল করে আর্জেন্টিনার পক্ষে ফাউলের সিদ্ধান্ত দেন।
কী এই এপিপি
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে ফাউল করার বেশ কয়েক সেকেন্ড পর গোলটি হয়েছে, তাহলে কেন সেটি বাতিল হলো?
সহজ ভাষায় কোনো দল আক্রমণ শুরু করে গোল করা, পেনাল্টি পাওয়া বা কোনো বড় ঘটনা ঘটানোর আগ পর্যন্ত যে সময়টুকু বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে, তাকেই এপিপি বলা হয়।
আক্রমণের শুরুর দিকে যদি কোনো ফাউল বা নিয়মভঙ্গ হয়, তবে গোল হওয়ার আগ পর্যন্ত যত সময়ই পার হোক না কেন—ভিএআর-এর সাহায্যে রেফারি একদম আক্রমণের শুরুতে ফিরে গিয়ে ফাউলটি ধরতে পারেন।
নিয়ম অনুযায়ী, একটি আক্রমণাত্মক ফেজ বা এপিপি তখনই শেষ হবে যখন:
১. আক্রমণকারী দলের সামনে এগিয়ে যাওয়ার গতি থেমে যাবে।
২. রক্ষণভাগ (ডিফেন্ডিং দল) বলের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবে (যেমন: কোনো চাপ ছাড়া বল ক্লিয়ার করা বা সতীর্থকে পাস দেওয়া)।
যেহেতু লিসান্দ্রোকে ফাউল করার পর আর্জেন্টিনা বলের নিয়ন্ত্রণ পায়নি এবং মিশর সরাসরি সেই আক্রমণ থেকেই গোলটি করেছে, তাই গোলটি সম্পূর্ণ অবৈধ ছিল। এর আগে দক্ষিন আমেরিকা বাছাইপর্বে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে নিকোলাস গঞ্জালেসের একটি ফাউলের কারণে লিওনেল মেসির গোলও ঠিক এই নিয়মে বাতিল করা হয়েছিল।