২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ১৬-র ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও ৩-২ গোলের অবিশ্বাস্য এক জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচ শেষে মাঠজুড়ে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। ম্যাচ জয়ের পর আলবিসেলেস্তে তারকা খেলোয়াড়রা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন ম্যাচের ভেতরের গল্প এবং ড্রেসিংরুম ও হাইড্রেশন ব্রেকের সেই বিশেষ বার্তার কথা, যা তাদের এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
অতিরিক্ত সময়ের নায়ক এনজো
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে দুর্দান্ত এক হেডার গোল করে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন এনজো ফার্নান্দেজ। ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত এনজো বলেন, "এটি অবিশ্বাস্য! কাতার বিশ্বকাপের পর থেকেই আমি এমন একটি গোলের অপেক্ষায় ছিলাম। এই মুহূর্তটি উপহার দেওয়ার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। আমাদের দলটা অসাধারণ, যারা কখনো হাল ছেড়ে দেয় না। আমরা এখানে আরেকটি বিশ্বকাপ উপভোগ করতে এবং সেটি জিততেই এসেছি। অতীতে কী হয়েছে তা ভুলে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।"
লাউতারোর হুঙ্কার ও মেসির কান্না
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে এনসো ফের্নান্দেসকে গোল করতে নিখুঁত অ্যাসিস্টটি বাড়িয়েছিলেন লাউতারো মার্তিনেজ। তিনি বলেন, "খুব কঠিন ম্যাচ ছিল। আজকে রাতে আমরা যা করেছি, তেমনটা আমি দীর্ঘদিন দেখিনি এবং এমন অনুভূতি অনেকদিন পর হলো। ম্যাচ শেষ হতে যখন মাত্র কয়েক মিনিট বাকি, তখনো প্রতিপক্ষ আমাদের ওপর চড়াও ছিল। তবে এটি আমাদের ক্যারেক্টার, নম্রতা এবং ত্যাগের আরেকটি প্রমাণ।"
অধিনায়ক লিওনেল মেসির আবেগঘন মুহূর্ত নিয়ে লাউতারো যোগ করেন, "লিও যেভাবে প্রতিদিন নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, তা সবার জন্য উদাহরণ। আমি তাকে বলেছি, তুমি কেঁদে নাও, কারণ এই কান্না তোমার প্রাপ্য।"
হাইড্রেশন ব্রেকের সেই 'টনিক'
২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় ম্যাচের দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেক (পানি পানের বিরতি)-এর সময় কোচ লিওনেল স্কালোনির দেওয়া বার্তার কথা জানান খেলোয়াড়রা। লাউতারো বলেন, "কোচ আমাদের বললেন—আমাদের যা কিছু শক্তি আছে তা নিয়ে অল-আউট ঝাঁপিয়ে পড়তে, কারণ আমরা সুযোগ তৈরি করছিলাম। ওই বার্তাটাই স্বস্তি এনে দিয়েছিল।"
একই কথা প্রতিধ্বনিত হলো হুলিয়ান আলভারেজের কণ্ঠেও। এবারের বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া এই স্ট্রাইকার বলেন, "হাইড্রেশন ব্রেকের সময় আমাদের একটাই বার্তা দেওয়া হয়েছিল—কখনো বিশ্বাস হারানো যাবে না। আমরা ভালো খেলছিলাম, কিন্তু ওরা সঠিক সময়ে আমাদের আঘাত করেছিল। আমাদের এই জায়গাগুলোতে আরও উন্নতি করতে হবে, তবে আমরা জানতাম গোল আসবেই।"
তিনি আরও যোগ করেন, "আমি সাধারণত আবেগপ্রবণ হই না, কিন্তু মাঠ থেকে ওঠার সময় বুকটা কেঁপে উঠেছিল। যেভাবে ম্যাচটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতীয় দলের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।"
পারেদেসের সেই মহাকাব্যিক ট্যাকল
ম্যাচ ২-২ সমতায় থাকার সময় ম্যাচের ৯০ মিনিটে মিশরের একটি নিশ্চিত কাউন্টার অ্যাটাক রুখে দেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তার সেই ট্যাকল থেকেই পাল্টা আক্রমণ তৈরি করে আর্জেন্টিনা জয়সূচক গোলটি পায়। পারদেস বলেন, "আমি এখনো রিপ্লে দেখিনি, তবে ওরা খুব দ্রুত গতিতে আসছিল। আমার ট্যাকল যদি দলের উপকারে আসে, তবেই আমি সার্থক। মাঠে থাকার সময় এর তীব্রতা বুঝিনি, কিন্তু খেলা শেষে সতীর্থরা যখন আমাকে এই ট্যাকলের গুরুত্ব বোঝাল, তখন সত্যিই খুব ভালো লেগেছে।"
দলের মানসিকতা নিয়ে পারেদেস বলেন, "আমরা কখনই ভাবিনি যে আমরা ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছি। এই দলটা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করতে এবং বিশ্বাস রাখতে জানে।"
৩-২ ব্যবধানের এই অবিশ্বাস্য জয়ের পর আলবিসেলেস্তেরা এখন কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে, যেখানে সেমিফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে তারা মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড অথবা কলম্বিয়ার।
যে নিয়মে বাতিল হলো মিশরের গোল, কি এই এপিপি?
রোমাঞ্চকর জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা