বাসযোগ্যতা সূচকের তলানিতে ঢাকা

প্রতি বছরের মতো এবারও বিশ্বের বাসযোগ্য শহরের নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)। এই তালিকায় বসবাসের সবচেয়ে অযোগ্য শহরের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা ও অবকাঠামোর মতো সূচকের আলোকে বিশ্বের ১৭৩টি শহর নিয়ে এই জরিপ করা হয়। এই তালিকায় ১৭১তম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। ফলে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহরগুলোর একটি হিসেবে স্থান পেয়েছে ঢাকা। বাসযোগ্যতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মোট স্কোর ৪২। বিস্ময়করভাবে, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরও ঢাকা থেকে কয়েক ধাপ এগিয়ে আছে।

গত কয়েক বছরের তথ্য থেকে দেখা যায়, ধারাবাহিকভাবে তালিকার তলানিতে ঢাকার অবস্থান। চলতি বছরে বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের মর্যাদা পেয়েছে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শীর্ষস্থান ধরে রাখল শহরটি। শহরটির মোট স্কোর ৯৮। তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা ও অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। উত্তর আমেরিকার একমাত্র শহর হিসেবে শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার (৯ম)। মেগাসিটিগুলোর মধ্যে একমাত্র টোকিও (১০ম) শীর্ষ দশে রয়েছে।

সূচক অনুযায়ী, বাসযোগ্য শহরের এই তালিকার একেবারে তলানিতে রয়েছে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই শহরের বর্তমান স্কোর ৩১ দশমিক ৬। ২০১৩ সাল থেকে দামেস্কের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। দামেস্কের ঠিক ওপরে ১৭২তম অবস্থানে রয়েছে লিবিয়ার ত্রিপোলি। আর পাকিস্তানের করাচি রয়েছে ১৭০তম অবস্থানে। তলানিতে থাকা বাকি শহরের মধ্যে রয়েছে- তেহরান, হারারে, কিয়েভ, পোর্ট মোর্সবি, লাগোস, আলজিয়ার্স। সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের শহরগুলোর বাসযোগ্যতার মান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ইরানি ড্রোন হামলার পর মাস্কটের অবস্থান ১৪ ধাপ নেমে ১২৩তম হয়েছে। এ ছাড়া দোহা, দুবাই এবং আবুধাবির মতো জনপ্রিয় শহরগুলোর র‌্যাংকিংও বেশ কয়েক ধাপ পিছিয়েছে।

তালিকার উন্নতির দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে চীন। ইআইইউর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চীন ও জাপানের শহরগুলোতে সূচকের উন্নয়ন উল্লেখযোগ্য। যার ফলে সার্বিকভাবে এশিয়ার শহরগুলোর গড় স্কোর বেড়েছে শূন্য দশমিক তিন। আর কোনো অঞ্চল এক বছরের ব্যবধানে এতটা সামনে আগাতে পারেনি। এশিয়ার ৫৮টি শহরের গড় স্কোর এখন ৭৩ দশমিক ৯, যা পূর্ব ইউরোপের চেয়েও বেশি। তবে ঢাকার মতো ‘সবচেয়ে অনুন্নত শহরগুলোর’ ধারাবাহিক কম স্কোরের কারণে গড় স্কোর কমে গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সরকারি বিনিয়োগের কারণে চীনের শহরগুলো স্বাস্থ্যসেবা খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। দেশটি এমন একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, যাতে প্রতিটি নাগরিক ১৫ মিনিট হাঁটার দূরত্বের মধ্যেই চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন। তবে কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা, পরিবেশগত সমস্যা এবং গণতান্ত্রিক ঘাটতির কারণে চীনের শহরগুলোর সামগ্রিক বাসযোগ্যতার র‌্যাংকিং প্রত্যাশিত হারে উন্নতি করতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।