শিবালয়ে ৬ দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার নবগ্রাম এলাকায় চীনা মালিকানাধীন হার্ডওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি (বিডি) লিমিটেডের শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নসহ ৬ দফা দাবিতে ফের আন্দোলনে নেমেছেন। তাদের অবরোধের কারণে ঢাকা-পাটুরিয়া মহাসড়কে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হলেও পরে স্বাভাবিক হয়ে যায়।

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে শ্রমিকরা কারখানার প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, গত ৭ এপ্রিল প্রকাশিত সরকারি গেজেটে নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি আগামী মাস থেকে কার্যকর করার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। পাশাপাশি তাদের উত্থাপিত ৬ দফা দাবিও উপেক্ষিত রয়েছে। এ কারণেই তারা পুনরায় আন্দোলনে নেমেছেন।

কারখানার সুপারভাইজার নাজমুল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বুধবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় প্রশাসন ও কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ১০ জন প্রতিনিধিকে আলোচনার জন্য ডেকে নেয়। আলোচনা শেষে তাদের জানানো হয়, ভবিষ্যতে আবার আন্দোলন হলে ওই ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। কিন্তু আমাদের প্রস্তাব ছিল, সব শ্রমিককে নিয়ে অন্তত এক ঘণ্টা আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা হোক। সেটি না করে উল্টো ওই ১০ জনসহ মোট ১৮ জন পদত্যাগ করেছেন। আজ সকাল থেকে আমরা বেতনের দাবিতে আন্দোলন করছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।

শ্রমিক তিশা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা ন্যায্য বেতনের দাবি জানিয়ে আসছি। নতুন গেজেট প্রকাশের পরও শুধু আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে বেতন বৃদ্ধি করা হচ্ছে না। সরকার যদি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে দেখত, তাহলে হয়তো আমরা আমাদের ন্যায্য মজুরি পেতাম।

এর আগে, গত ২০ জুন একই দাবিতে আন্দোলনের সময় শ্রমিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় প্রশাসন এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সে সময় আগামী মাস থেকে সরকারি গেজেট অনুযায়ী বেতন-ভাতা কার্যকর করার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছিল।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, ওই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তারা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। 

পরে দুপুর ১টার দিকে শ্রমিকরা রাস্তা ছেড়ে দিলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।