ভারী বর্ষণ ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে ৩৩ কেভির বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় চট্টগ্রামের আনোয়ারায় তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। এতে গ্রাহক রয়েছেন ৯০ হাজারের বেশি। এ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিদ্যুৎ সরবরাহ দিয়ে আসছে।
গত সোমবার রাত থেকে বিদ্যুৎবিহীন থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা কবে নাগাদ বিদ্যুৎ-সংযোগ চালু হতে পারে, তা বলতে পারছেন না। বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসেনি।
দক্ষিণ জুঁইদণ্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সালাউদ্দিন রশিদ বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত কয়েক হাজার টাকার মাছ-মাংস ও ফলমূল নষ্ট হয়ে গেছে। সন্ধ্যায় ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া একেবারেই হচ্ছে না।
এদিকে লাগাতার বিদ্যুৎ না থাকায় এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি রোগাক্রান্ত, শিশু ও বয়োবৃদ্ধরাও সীমাহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
বুধবার সন্ধ্যায় আনোয়ারার বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকায় আলো জ্বলছে সোলার প্যানেল ও জেনারেটর দিয়ে। হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি প্রয়োজনে জেনারেটর চালিয়ে সমস্যার সমাধান করলেও বাসাবাড়ির লোকজনের সংকট তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আনোয়ারা জোনাল কার্যালয় সূত্র জানায়, গত সোমবার রাতে বৈরি আবহাওয়ার কারণে শাহমীরপুর এলাকায় ৩৩ হাজার ভোল্টের (৩৩ কেভি) বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটি ভেঙে যায়। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে। গাছ পড়ে বিপুল পরিমাণ তার ছিঁড়ে গেছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি আনোয়ারা জোনালের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান বলেন, বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন ও তার সংস্কারের জন্য একটি দল কাজ করছে। তবে অতি বর্ষণের কারণে এসব কাজ করতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।