টানা বৃষ্টিতে খাল খননের পানি ঢুকছে ঘরে, চরম ভোগান্তি

টানা কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ এবং অপরিকল্পিত খাল খননের খেসারত দিচ্ছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার খালপাড়ের প্রায় ১০ হাজার পরিবার। গত রবিবার থেকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বৈরাগ ও চাতরীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৈরাগ আমানউল্লাহ পাড়া থেকে শুরু করে চাতরীর টানেল মোড় পর্যন্ত কূল ঘেঁষে যাওয়া কান্দরিয়া খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে। কিন্তু খননের মাটি অপসারণ না করায় পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ওই এলাকার সুজামল্লপাড়া, আলী মিয়া সওদাগর বাড়ি, আমিনুর বাড়ী, আবুল বশর ডাক্তারের বাড়ি, পাঁচ সিকদার বাড়ি, কাজী বাড়িসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার। এলাকায় খালের মাটি ও নোংরা পানি সরাসরি মানুষের বসতবাড়িতে ঢুকে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এসব পরিবারের মানুষ।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য কান্দরিয়া খালটি পুনঃখনন করা হয়। কিন্তু নিয়ম মেনে খালের মাটি দূরে না সরিয়ে, খালের পাড় ও সড়কে স্তুপ করে রাখা হয়েছিল। গত কয়েকদিনের টানা ভারি বৃষ্টির কারণে পাড়ে জমে থাকা সেই মাটি ধুয়ে এবং খালের উপচে পড়া নোংরা পানি লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। পানির তোড়ে মাটি গলে কাদায় সয়লাব হয়ে গেছে। অনেক কাঁচা ও পাকা ঘরের ভেতরে হাঁটু পর্যন্ত কাদা-পানি প্রবেশ করেছে। এতে ঘরের আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে রান্নার চুলা তলিয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারে গত দুদিন ধরে রান্না বন্ধ রয়েছে।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ মুবিন, মোহাম্মদ হৃদয়, নুরুল হক, পারভেজ, আমিনুল হক, মোহাম্মদ হাকিম, তৌকির উদ্দিন হৃদয়, রায়হান, মোহাম্মদ সোহেলসহ একাধিক বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খাল খনন করা হয়েছিল আমাদের উপকারের জন্য। কিন্তু মাটিগুলো সড়কে রেখে দেওয়ায় এখন তা আমাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সব মাটি ধুয়ে আমাদের ঘরের ভেতর ঢুকে পড়েছে। এখন ঘরে থাকার কোনো পরিবেশ নেই। ঘর বন্দি নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। রান্না ঘরে পানি জমে থাকায় অন্যের বাড়িতে গিয়ে রান্না করতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে। খাল খননের মাটি সড়কে রাখার সময় স্থানীয়রা বাঁধা দিলেও ঠিকাদার ও নিয়োজিতরা শোনেননি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইকবাল বাহার বলেন, অপরিকল্পিত প্রকল্প ও ঠিকাদারদের স্বেচ্ছাচারিতা এবং অর্থের বিনিময়ে কোথাও সরু, আবার কোথাও প্রশস্ত করে খাল কাটা হয়েছে। টানেল মোড় থেকে পাঁচ সিকদার বাড়ি কালর্ভাট পর্যন্ত নামমাত্রই খাল খনন কাজ করেছে। ঠিকাদার এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে খালের ভেতর গড়ে ওঠা স্থাপনা ও গাছপালা অপসারণ না করে কেবল খাল থেকে অল্প কাঁদা তুলে সড়কে স্তুপ করে রাখে। সড়কে স্তুপ করে রাখা এসব কাঁদা মাটি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে এখন সবার ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। পানি বন্দি সুজারপাড়া, আলী মিয়া সওদাগর বাড়ি, আমিনুর বাড়ী, আবুল বশর ডাক্তারের বাড়ি, পাঁচ সিকদার বাড়ি, কাজী বাড়িসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম।

এ বিষয়ে জানতে কান্দরিয়া খালটি পুনঃখনন প্রকল্পের সভাপতি বৈরাগ ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বরের মহিলা ইউপি সদস্য বুলবুল আকতারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে বৈরাগ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কাজী মানছুর আহমেদও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আনোয়ারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) উমা খান কাফি বলেন, ‘ভারি বৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিপর্যয় ঘটেছে। বিভিন্ন স্থানে সড়কও ডুবে গেছে। আজ বুধবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’